প্রণালি ও সীমারেখা: মানচিত্রের সরু দাগ

এই পাঠের তথ্য উৎস মিলিয়ে লেখা ও প্রথমবার যাচাই করা হয়েছে; কয়েক দিন পর দ্বিতীয়বার যাচাই চলছে। কোথাও ভুল চোখে পড়লে নিচের “ভুল জানান” বাক্সে লিখুন।

বিশ্বের তেলের বড় একটা অংশ যায় পারস্য উপসাগরের এক সরু মুখ দিয়ে, হরমুজ প্রণালি। সেখানে একটা জাহাজ আটকালে সারা পৃথিবীর জ্বালানির দাম কেঁপে ওঠে। দুই বড় জলভাগকে জোড়া সরু জলপথকে বলে প্রণালি; আর দুই দেশের মাঝের দাগকে বলে সীমারেখা। ভূরাজনীতির প্রশ্নে এ দুটোই বারবার আসে।

গুরুত্বপূর্ণ প্রণালি

প্রণালিযুক্ত করেপৃথক করে
মালাক্কাআন্দামান সাগর ও দক্ষিণ চীন সাগরমালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া (সুমাত্রা)
হরমুজপারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরইরান ও ওমান
জিব্রাল্টারআটলান্টিক মহাসাগর ও ভূমধ্যসাগরস্পেন (ইউরোপ) ও মরক্কো (আফ্রিকা)
বাব-এল-মান্দেবলোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরইয়েমেন ও জিবুতি/ইরিত্রিয়া
বসফরাসকৃষ্ণসাগর ও মারমারা সাগরতুরস্কের ভেতরে ইউরোপ ও এশিয়া
বেরিংবেরিং সাগর ও চুকচি সাগররাশিয়া (এশিয়া) ও যুক্তরাষ্ট্র (উত্তর আমেরিকা)
পকবঙ্গোপসাগর ও পক উপসাগরভারত ও শ্রীলঙ্কা
সুন্দাভারত মহাসাগর ও জাভা সাগরজাভা ও সুমাত্রা
কুকতাসমান সাগর ও দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরনিউজিল্যান্ডের উত্তর ও দক্ষিণ দ্বীপ
বাসতাসমান সাগর ও দক্ষিণ মহাসাগরঅস্ট্রেলিয়া ও তাসমানিয়া

কৌশল: “হরমুজে তেল, মালাক্কায় চীনের জাহাজ, জিব্রাল্টারে ইউরোপ-আফ্রিকা, বেরিংয়ে রাশিয়া-আমেরিকা।”

বিখ্যাত সীমারেখা

রেখাযাদের মধ্যেতথ্য
র‍্যাডক্লিফ লাইনভারত ও পাকিস্তান (তৎকালীন পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানসহ)১৯৪৭ সালের দেশভাগে স্যার সিরিল র‍্যাডক্লিফ
ডুরান্ড লাইনপাকিস্তান ও আফগানিস্তান১৮৯৩, স্যার মর্টিমার ডুরান্ড; আফগানিস্তান মানে না
ম্যাকমোহন লাইনভারত ও চীন১৯১৪, স্যার হেনরি ম্যাকমোহন; চীন মানে না
৩৮তম সমান্তরাল রেখাউত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া—
১৭তম সমান্তরাল রেখাতৎকালীন উত্তর ও দক্ষিণ ভিয়েতনাম১৯৫৪, জেনেভা চুক্তি
৪৯তম সমান্তরাল রেখাযুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা—
ওডার-নাইসে লাইনপোল্যান্ড ও জার্মানিপটসডাম সম্মেলন; একীভূত জার্মানি ১৯৯০-এ মেনে নেয়

এর পাশাপাশি কিছু “লাইন” আসলে সামরিক প্রতিরক্ষা রেখা: ম্যাজিনো লাইন (ফ্রান্সের, জার্মান সীমান্তে), সিগফ্রিড লাইন (জার্মানির), ম্যানারহাইম লাইন (ফিনল্যান্ডের, সোভিয়েতের বিরুদ্ধে)।

পরীক্ষার ফাঁদ

  • ডুরান্ড লাইনকে ভারত-চীন সীমা ভাবা। ভারত-চীন ম্যাকমোহন; ডুরান্ড পাকিস্তান-আফগানিস্তান।
  • ৩৮তম আর ৪৯তম গুলিয়ে ফেলা। ৩৮ কোরিয়া, ৪৯ যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা।
  • পক প্রণালিকে ভারত-মালদ্বীপের মাঝে ভাবা। পক ভারত ও শ্রীলঙ্কার মাঝে।
  • বসফরাসকে দুই দেশের সীমা ভাবা। এটা তুরস্কের ভেতরে, ইউরোপ ও এশিয়াকে আলাদা করে।

নিজেকে যাচাই করুন

বিশ্ব ইতিহাস ও ভূরাজনীতি: এই ভাগের সব পাঠ৫ / ৫
  1. প্রাচীন সভ্যতা: নদীর তীরের প্রথম শহর
  2. বিখ্যাত বিপ্লব: বাস্তিল থেকে উইন্টার প্যালেস
  3. দুই বিশ্বযুদ্ধ: ২৮ জুনের শুরু, ২৮ জুনের শেষ
  4. স্নায়ুযুদ্ধ: গুলি ছাড়া চার দশকের যুদ্ধ
  5. প্রণালি ও সীমারেখা: মানচিত্রের সরু দাগ (এখন পড়ছেন)
বিশ্ব ইতিহাস ও ভূরাজনীতি ভাগের পাতায় যান →