স্নায়ুযুদ্ধ: গুলি ছাড়া চার দশকের যুদ্ধ

এই পাঠের তথ্য উৎস মিলিয়ে লেখা ও প্রথমবার যাচাই করা হয়েছে; কয়েক দিন পর দ্বিতীয়বার যাচাই চলছে। কোথাও ভুল চোখে পড়লে নিচের “ভুল জানান” বাক্সে লিখুন।

দুই দেশ একে অপরের দিকে হাজার হাজার পারমাণবিক বোমা তাক করে আছে, কিন্তু সরাসরি একটা গুলিও ছুড়ছে না। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র আর সোভিয়েত ইউনিয়নের এই চার দশকের টানাপোড়েনের নামই স্নায়ুযুদ্ধ (Cold War)।

নামটা এল কোথা থেকে

  • জর্জ অরওয়েল ১৯ অক্টোবর ১৯৪৫ সালে Tribune পত্রিকায় “You and the Atom Bomb” প্রবন্ধে “cold war” কথাটা ব্যবহার করেন।
  • মার্কিন-সোভিয়েত দ্বন্দ্ব বোঝাতে প্রথম ব্যবহারের কৃতিত্ব দেওয়া হয় বার্নার্ড বারুখ-কে (১৬ এপ্রিল ১৯৪৭, সাউথ ক্যারোলিনায় এক বক্তৃতায়)।
  • সাংবাদিক ওয়াল্টার লিপম্যান ১৯৪৭ সালে Cold War নামে বই লিখে শব্দটা জনপ্রিয় করেন।

সময়রেখা

সালঘটনা
৫ মার্চ ১৯৪৬চার্চিলের “লৌহ যবনিকা” (Iron Curtain) বক্তৃতা
১২ মার্চ ১৯৪৭ট্রুম্যান ডকট্রিন: গ্রিস ও তুরস্ককে সাহায্যের ঘোষণা, কমিউনিজম “ঠেকানো” (containment) নীতি
১৯৪৮–১৯৫১মার্শাল পরিকল্পনা: পশ্চিম ইউরোপ পুনর্গঠনে মার্কিন অর্থসাহায্য
জুন ১৯৪৮–মে ১৯৪৯বার্লিন অবরোধ; পশ্চিমারা বিমানে রসদ পাঠায় (Berlin Airlift)
এপ্রিল ১৯৪৯ন্যাটো (NATO) গঠন
১৪ মে ১৯৫৫ওয়ারশ চুক্তি (সোভিয়েত নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট)
১৯৬১বার্লিন প্রাচীর নির্মাণ
অক্টোবর ১৯৬২কিউবা ক্ষেপণাস্ত্র সংকট: পারমাণবিক যুদ্ধের সবচেয়ে কাছাকাছি
১৯৬৩আংশিক পারমাণবিক পরীক্ষা নিষিদ্ধ চুক্তি (যুক্তরাষ্ট্র, সোভিয়েত, ব্রিটেন)
১৯৮৯বার্লিন প্রাচীরের পতন
১ জুলাই ১৯৯১ওয়ারশ চুক্তির বিলুপ্তি
ডিসেম্বর ১৯৯১সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন; স্নায়ুযুদ্ধের অবসান

কৌশল: “৪৯-এ ন্যাটো, ৫৫-তে ওয়ারশ; ৬১-তে দেয়াল ওঠে, ৮৯-এ পড়ে।” আগে পশ্চিমের জোট (ন্যাটো), ছয় বছর পরে তার জবাব (ওয়ারশ)।

পরীক্ষার ফাঁদ

  • বার্লিন প্রাচীর ১৯৪৮ সালে তৈরি ভাবা। ১৯৪৮ হলো বার্লিন অবরোধ; প্রাচীর ১৯৬১।
  • ওয়ারশ চুক্তিকে ন্যাটোর আগে ভাবা। ন্যাটো ১৯৪৯, ওয়ারশ ১৯৫৫।
  • ট্রুম্যান ডকট্রিন আর মার্শাল প্ল্যান গুলিয়ে ফেলা। ট্রুম্যান ডকট্রিন মূলত গ্রিস-তুরস্কে কমিউনিজম ঠেকানোর ঘোষণা; মার্শাল প্ল্যান ইউরোপের অর্থনৈতিক পুনর্গঠন।
  • “লৌহ যবনিকা” কথাটা ট্রুম্যানের ভাবা। এটা চার্চিলের।

নিজেকে যাচাই করুন