এই পাঠের তথ্য উৎস মিলিয়ে লেখা ও প্রথমবার যাচাই করা হয়েছে; কয়েক দিন পর দ্বিতীয়বার যাচাই চলছে। কোথাও ভুল চোখে পড়লে নিচের “ভুল জানান” বাক্সে লিখুন।
ধরুন আপনি রান্না করছেন। হাতে যা আছে (সবচেয়ে দ্রুত), টেবিলে যা রাখা (দ্রুত), ফ্রিজে যা আছে (একটু দূরে), আর বাজারে যা পাওয়া যায় (অনেক দূরে, কিন্তু অনেক বেশি)। কম্পিউটারের মেমোরিও ঠিক এভাবে সাজানো।
মেমোরির সিঁড়ি: দ্রুত থেকে ধীর
| স্তর | রান্নাঘরের তুলনা | বৈশিষ্ট্য |
|---|---|---|
| রেজিস্টার | হাতে ধরা | সিপিইউর ভেতরে; সবচেয়ে দ্রুত, সবচেয়ে ছোট |
| ক্যাশ মেমোরি (L1, L2, L3) | টেবিলে | SRAM দিয়ে তৈরি; সিপিইউ আর র্যামের মাঝে |
| প্রধান মেমোরি (RAM) | ফ্রিজে | DRAM দিয়ে তৈরি; চলমান কাজ এখানে থাকে |
| সহায়ক মেমোরি (হার্ডডিস্ক, SSD) | বাজারে | ধীর, কিন্তু অনেক বড় আর স্থায়ী |
কৌশল: “রেজি-ক্যাশ-র্যাম-ডিস্ক”: ওপরে গেলে দ্রুত আর দামি, নিচে নামলে ধীর আর বড়।
RAM: বিদ্যুৎ গেলে সব মুছে যায়
RAM হলো অস্থায়ী (volatile) মেমোরি: পড়া আর লেখা দুটোই যায়, কিন্তু বিদ্যুৎ বন্ধ হলে তথ্য মুছে যায়।
| SRAM (স্ট্যাটিক) | DRAM (ডায়নামিক) | |
|---|---|---|
| প্রতি বিট রাখে | ফ্লিপ-ফ্লপে (৬টি ট্রানজিস্টর) | ক্যাপাসিটরে (১টি ট্রানজিস্টর + ১টি ক্যাপাসিটর) |
| রিফ্রেশ লাগে? | না | হ্যাঁ, বারবার; ক্যাপাসিটরের চার্জ ক্ষয় হয় |
| গতি ও দাম | দ্রুত, দামি | ধীর, সস্তা |
| ব্যবহার | ক্যাশ মেমোরি | প্রধান মেমোরি |
নাম থেকেই মনে রাখুন: Dynamic মানে “নড়াচড়া করে”, চার্জ চলে যায়, তাই বারবার Refresh। Static মানে “স্থির”, রিফ্রেশ লাগে না।
ROM: স্থায়ী মেমোরি
ROM স্থায়ী (non-volatile): বিদ্যুৎ গেলেও তথ্য থাকে। কম্পিউটার চালু করার প্রাথমিক নির্দেশনা (যেমন BIOS) এ ধরনের মেমোরিতে থাকে।
| ধরন | কীভাবে লেখা/মোছা যায় |
|---|---|
| Mask ROM | কারখানায় লেখা; বদলানো যায় না |
| PROM | একবারই প্রোগ্রাম করা যায় |
| EPROM | অতিবেগুনি (UV) রশ্মি দিয়ে মোছা যায় |
| EEPROM | বিদ্যুৎ দিয়ে মোছা যায় |
| ফ্ল্যাশ মেমোরি | EEPROM-এর একটা ধরন; ব্লক ধরে বিদ্যুৎ দিয়ে মোছে (পেনড্রাইভ, SSD) |
কৌশল: EPROM-এ এক E, মুছতে আলো (UV)। EEPROM-এ দুই E, দ্বিতীয় E = Electrically।
পরীক্ষার ফাঁদ
- ক্যাশকে সবচেয়ে দ্রুত ভাবা। সবচেয়ে দ্রুত রেজিস্টার।
- ক্যাশ DRAM দিয়ে তৈরি ভাবা। ক্যাশ SRAM।
- EPROM আর EEPROM-এর মোছার উপায় উল্টে ফেলা।
- ROM-কে “শুধু পড়া যায়, কখনো লেখা যায় না” বলা। PROM, EPROM, EEPROM-এ লেখা যায়, শুধু নিয়ম আলাদা।
নিজেকে যাচাই করুন
কম্পিউটার: এই ভাগের সব পাঠ
- কম্পিউটারের ইতিহাস ও প্রজন্ম: অ্যাবাকাস থেকে মাইক্রোপ্রসেসর
- সংখ্যা পদ্ধতি: কম্পিউটারের দুই আঙুলের হিসাব
- লজিক গেট: কম্পিউটারের ছোট ছোট দরজা
- মেমোরি: কম্পিউটারের রান্নাঘর (এখন পড়ছেন)
- হার্ডওয়্যার ও পেরিফেরাল: চোখ, মাথা আর মুখ
- সফটওয়্যার ও অপারেটিং সিস্টেম: অফিসের ম্যানেজার
- প্রোগ্রামিং ভাষা: মানুষ আর যন্ত্রের সেতু
- ডেটাবেজ: কম্পিউটারের রেজিস্টার খাতা
- কম্পিউটারের সংক্ষিপ্ত রূপ: দলে ভাগ করে মনে রাখুন