এই পাঠের তথ্য উৎস মিলিয়ে লেখা ও প্রথমবার যাচাই করা হয়েছে; কয়েক দিন পর দ্বিতীয়বার যাচাই চলছে। কোথাও ভুল চোখে পড়লে নিচের “ভুল জানান” বাক্সে লিখুন।
পৃথিবীকে ঘিরে আছে বাতাসের একটা অদৃশ্য কম্বল। দিনে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি আটকায়, রাতে তাপ ধরে রাখে, আর মহাকাশ থেকে আসা উল্কাকে পুড়িয়ে ছাই করে দেয়। এই কম্বলের নাম বায়ুমণ্ডল, আর এর আছে পাঁচটা স্তর।
বাতাসে কী আছে
| গ্যাস | পরিমাণ (প্রায়) |
|---|---|
| নাইট্রোজেন | ৭৮% |
| অক্সিজেন | ২১% |
| আর্গন | ০.৯৩% |
| কার্বন ডাই-অক্সাইড | ০.০৪% |
| জলীয় বাষ্প | স্থান-কালভেদে বদলায় |
কৌশল: “৭৮-২১-১”: নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, বাকি প্রায় ১%-এর বেশিরভাগ আর্গন।
পাঁচ স্তর, নিচ থেকে ওপরে
| স্তর | উচ্চতা (প্রায়) | তাপমাত্রা | বিশেষত্ব |
|---|---|---|---|
| ট্রপোমণ্ডল | ০ – ১২ কিমি (অঞ্চলভেদে ৯–১৭) | উচ্চতায় কমে | প্রায় সব মেঘ, বৃষ্টি, ঝড়; বায়ুমণ্ডলের প্রায় ৭৫% ভর |
| স্ট্রাটোমণ্ডল | ১২ – ৫০ কিমি | উচ্চতায় বাড়ে | ওজোন স্তর (প্রায় ১৫–৩৫ কিমি) অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে |
| মেসোমণ্ডল | ৫০ – ৮৫ কিমি | উচ্চতায় কমে; সবচেয়ে ঠান্ডা স্তর | উল্কা এখানে পুড়ে যায় |
| তাপমণ্ডল | ৮৫ – ৫০০/১০০০ কিমি | উচ্চতায় বাড়ে | মেরুজ্যোতি (অরোরা), আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন; আয়নমণ্ডলের বড় অংশ |
| বহির্মণ্ডল | ৫০০/১০০০ কিমির ওপরে | — | খুব পাতলা গ্যাস, ধীরে মহাশূন্যে মিশে যায় |
ছন্দ: “ট্র-স্ট্রা-মে-তা-ব”: ট্রপো, স্ট্রাটো, মেসো, তাপ, বহি। তাপমাত্রা চলে “কমে-বাড়ে-কমে-বাড়ে”।
সীমারেখা
- ট্রপোমণ্ডলের ওপরের সীমা ট্রপোবিরতি (tropopause), স্ট্রাটোমণ্ডলের স্ট্রাটোবিরতি, মেসোমণ্ডলের মেসোবিরতি।
- প্রায় ১০০ কিমি উচ্চতার কারমান রেখাকে প্রথাগতভাবে মহাকাশের শুরু ধরা হয়; এটা তাপমণ্ডলের ভেতরে।
পরীক্ষার ফাঁদ
- ওজোন স্তরকে ট্রপোমণ্ডলে ভাবা। এটা স্ট্রাটোমণ্ডলে।
- সবচেয়ে ঠান্ডা স্তর ট্রপোমণ্ডল লেখা। সবচেয়ে ঠান্ডা মেসোমণ্ডল।
- বাতাসে অক্সিজেন সবচেয়ে বেশি ভাবা। সবচেয়ে বেশি নাইট্রোজেন (৭৮%)।
- উল্কা তাপমণ্ডলে পোড়ে লেখা। প্রচলিত উত্তর মেসোমণ্ডল।