বংশগতি ও ডিএনএ: জীবনের রান্নার বই

এই পাঠের তথ্য উৎস মিলিয়ে লেখা ও প্রথমবার যাচাই করা হয়েছে; কয়েক দিন পর দ্বিতীয়বার যাচাই চলছে। কোথাও ভুল চোখে পড়লে নিচের “ভুল জানান” বাক্সে লিখুন।

আপনার চোখের রং, চুলের ধরন, এমনকি কিছু রোগের ঝুঁকি: এসবের নির্দেশনা লেখা আছে প্রতিটি কোষের ভেতরের একটা লম্বা অণুতে। নাম তার ডিএনএ। এটা যেন জীবনের রান্নার বই, আর বংশগতি হলো সেই বই মা-বাবা থেকে সন্তানের হাতে যাওয়া।

ডিএনএর গঠন: পাকানো মই

  • ১৯৫৩ সালে ওয়াটসন ও ক্রিক ডিএনএর দ্বিসূত্রক হেলিক্স (double helix) গঠন প্রস্তাব করেন; তাঁরা রোজালিন্ড ফ্র্যাংকলিন ও মরিস উইলকিন্সের এক্স-রে চিত্রের সাহায্য নেন।
  • দুটো সূত্র পেঁচিয়ে থাকে, যেন একটা পাকানো মই। মইয়ের দুই পাশ চিনি (ডিঅক্সিরাইবোজ) আর ফসফেট দিয়ে তৈরি; মাঝের ধাপগুলো ক্ষারকের জোড়া।
  • ডিএনএ প্রথম আলাদা করেন ফ্রেডরিখ মিশার, ১৮৬৯ সালে।

চার ক্ষারক, দুই জোড়া

ক্ষারকজোড়া বাঁধে
অ্যাডেনিন (A)থাইমিন (T)
গুয়ানিন (G)সাইটোসিন (C)

কৌশল: “Apple Tree, Green Car”: A-T আর G-C। আরএনএ-তে থাইমিনের জায়গায় থাকে ইউরাসিল (U), আর চিনি হলো রাইবোজ।

ক্রোমোজোম

মানুষের দেহকোষে সাধারণত ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে, অর্থাৎ ২৩ জোড়া। প্রথম ২২ জোড়া অটোজোম; ২৩তম জোড়া লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম: নারীতে XX, পুরুষে XY। ডিম্বাণু আর শুক্রাণুতে থাকে অর্ধেক, ২৩টি করে।

সন্তান ছেলে না মেয়ে কে ঠিক করে

মায়ের ডিম্বাণুতে সবসময় একটা X। বাবার শুক্রাণুতে থাকতে পারে X অথবা Y। X এলে সন্তান XX (মেয়ে), Y এলে XY (ছেলে)। তাই জীববিজ্ঞানের হিসাবে সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারিত হয় বাবার শুক্রাণুর ক্রোমোজোম দিয়ে।

বংশগতির পথিকৃৎ

গ্রেগর মেন্ডেল উনিশ শতকের মাঝামাঝি মটরশুঁটি গাছ নিয়ে পরীক্ষা করে বংশগতির মূল নিয়মগুলো দেখান। তাঁকে বংশগতিবিদ্যার জনক বলা হয়। পরে বিশ শতকের শুরুতে থমাস হান্ট মরগান ফলের মাছি নিয়ে কাজ করে দেখান যে বংশগতির এককগুলো ক্রোমোজোমেই থাকে।

পরীক্ষার ফাঁদ

  • A-এর জোড়া G লেখা। A-T, G-C।
  • আরএনএ-তে থাইমিন আছে ভাবা। আরএনএ-তে ইউরাসিল।
  • মানুষের ক্রোমোজোম ২৩টি লেখা। ২৩ জোড়া, মোট ৪৬টি।
  • সন্তানের লিঙ্গ মায়ের ওপর নির্ভর করে ভাবা। নির্ভর করে বাবার শুক্রাণুর X বা Y-এর ওপর।

নিজেকে যাচাই করুন