এই পাঠের তথ্য উৎস মিলিয়ে লেখা ও প্রথমবার যাচাই করা হয়েছে; কয়েক দিন পর দ্বিতীয়বার যাচাই চলছে। কোথাও ভুল চোখে পড়লে নিচের “ভুল জানান” বাক্সে লিখুন।
১৯০৭ সাল। কলকাতার এক পণ্ডিত তৃতীয়বারের মতো নেপালে গেছেন পুরোনো পুঁথির খোঁজে। রাজদরবারের গ্রন্থাগারে তিনি পেলেন তালপাতায় লেখা কিছু গান, যার ভাষা দুর্বোধ্য, কিন্তু কোথাও যেন চেনা। এই পণ্ডিত হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, আর তাঁর পাওয়া পুঁথিটাই চর্যাপদ: বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন।
এক নজরে চর্যাপদ
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| আবিষ্কারক | মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী |
| আবিষ্কারের সাল ও স্থান | ১৯০৭; নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার |
| প্রকাশ | ১৯১৬, বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ, কলকাতা |
| প্রকাশিত গ্রন্থের নাম | হাজার বছরের পুরাণ বাংলা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা |
| বিষয়বস্তু | বৌদ্ধ সহজিয়া সাধকদের সাধনতত্ত্ব |
| ভাষা | সন্ধ্যা (সান্ধ্য) ভাষা: আলো-আঁধারির মতো, একাধিক অর্থের ভাষা |
| প্রাপ্ত পদ | সাড়ে ছেচল্লিশটি (৪৬টি পূর্ণ, একটি খণ্ডিত); মূল পুঁথিতে ছিল ৫১টি |
| পাওয়া যায়নি | ২৪, ২৫ ও ৪৮ নম্বর পদ |
| প্রথম পদের রচয়িতা | লুইপা |
| সবচেয়ে বেশি পদ | কাহ্নপা: রচনা ১৩টি, পাওয়া গেছে ১২টি |
| তিব্বতি অনুবাদ আবিষ্কার | প্রবোধচন্দ্র বাগচী |
মনে রাখার কৌশল: “৭-এ পাওয়া, ১৬-তে ছাপা।” ১৯০৭ সালে আবিষ্কার, ১৯১৬ সালে প্রকাশ। আর “লুই শুরু করে, কাহ্ন সবচেয়ে বেশি লেখে।”
যেখানে পণ্ডিতরা একমত নন
পরীক্ষায় এই অংশে সবচেয়ে বেশি ভুল হয়, কারণ বইভেদে উত্তর আলাদা। নিচে মতভেদগুলো নাম ধরে দেওয়া হলো।
| প্রশ্ন | মত |
|---|---|
| পদকর্তা কতজন? | সুকুমার সেনের মতে ২৪ জন; ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে ২৩ জন। বিকল্পে ২৪ থাকলে সাধারণত সেটাই প্রত্যাশিত উত্তর। |
| রচনাকাল | সাধারণভাবে আনুমানিক ৯৫০–১২০০ খ্রিস্টাব্দ ধরা হয়; তবে রচনাকাল নিয়ে পণ্ডিতদের মধ্যে মতভেদ আছে। |
| ভাষা কোনটির? | সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে দেখান এটি বাংলা। কেউ কেউ হিন্দি বা মৈথিলীর দাবি তুলেছিলেন। |
পরীক্ষার ফাঁদ
- আবিষ্কার আর প্রকাশের সাল উল্টে ফেলা (১৯০৭ বনাম ১৯১৬)।
- “সবচেয়ে বেশি পদ” প্রশ্নে ১৩ আর ১২ গুলিয়ে ফেলা: কাহ্নপা লিখেছেন ১৩টি, পাওয়া গেছে ১২টি।
- প্রথম পদকর্তা হিসেবে কাহ্নপা লেখা। প্রথম পদ লুইপার।
- তিব্বতি অনুবাদের আবিষ্কারক হিসেবে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী লেখা। তিনি মূল পুঁথির আবিষ্কারক; তিব্বতি অনুবাদ প্রবোধচন্দ্র বাগচীর।