ঘড়ি ও ক্যালেন্ডার: দুই দৌড়বিদের হিসাব

এই পাঠের তথ্য উৎস মিলিয়ে লেখা ও প্রথমবার যাচাই করা হয়েছে; কয়েক দিন পর দ্বিতীয়বার যাচাই চলছে। কোথাও ভুল চোখে পড়লে নিচের “ভুল জানান” বাক্সে লিখুন।

ঘড়ির দুই কাঁটা যেন দুই দৌড়বিদ। মিনিটের কাঁটা দ্রুত, ঘণ্টার কাঁটা ধীর। কখন তারা পাশাপাশি, কখন সমকোণে, সেটা হিসাব করতে দরকার শুধু দুজনের গতি।

কাঁটার গতি

কাঁটাএক ঘণ্টায়এক মিনিটে
মিনিটের কাঁটা৩৬০°৬°
ঘণ্টার কাঁটা৩০°½°

তাই প্রতি মিনিটে মিনিটের কাঁটা ঘণ্টার কাঁটার চেয়ে ৫½° বেশি এগোয়।

এক সূত্রে কোণ

কোণ = |৩০ × ঘণ্টা − ৫.৫ × মিনিট|। ফল ১৮০°-এর বেশি হলে ৩৬০ থেকে বিয়োগ করুন।

  • ৩টা ১৫: |৯০ − ৮২.৫| = ৭.৫° (০° নয়!)
  • ৪টা ২০: |১২০ − ১১০| = ১০°
  • ২টা ৩০: |৬০ − ১৬৫| = ১০৫°
  • ৭টা ২০: |২১০ − ১১০| = ১০০°
  • ১২টা ৩০: |০ − ১৬৫| = ১৬৫°

কতবার মিলিত হয়

ঘটনা১২ ঘণ্টায়২৪ ঘণ্টায়
কাঁটা দুটো মিলে যায় (০°)১১ বার২২ বার
বিপরীত দিকে (১৮০°)১১ বার২২ বার
সমকোণে (৯০°)২২ বার৪৪ বার

৩টা থেকে ৪টার মধ্যে কাঁটা দুটো মিলবে ৩টা বেজে ১৬ ৪/১১ মিনিটে। হিসাব: ৯০° পিছিয়ে আছে, প্রতি মিনিটে ৫.৫° কমে, তাই ৯০ ÷ ৫.৫ = ১৮০/১১ মিনিট।

ক্যালেন্ডার: বিজোড় দিন

সাধারণ বছরে ৩৬৫ দিন = ৫২ সপ্তাহ + ১ দিন। অধিবর্ষে ৩৬৬ দিন = ৫২ সপ্তাহ + ২ দিন। এই বাড়তি দিনকে বলে বিজোড় দিন। তাই পরের বছর একই তারিখ সাধারণত এক বার পিছিয়ে যায়; মাঝে ২৯ ফেব্রুয়ারি পড়লে দুই বার।

উদাহরণ: ৫ নভেম্বর ২০২৬ বৃহস্পতিবার। ৫ নভেম্বর ২০২৭ শুক্রবার (এক বার এগোল)। ৫ নভেম্বর ২০২৮ রবিবার (মাঝে ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৮, তাই দুই বার)।

অধিবর্ষ চেনার নিয়ম

  • ৪ দিয়ে বিভাজ্য হলে অধিবর্ষ (২০২৪)।
  • কিন্তু শতাব্দী বছর (০০ দিয়ে শেষ) হলে ৪০০ দিয়ে বিভাজ্য হতে হবে। তাই ২০০০ অধিবর্ষ, কিন্তু ১৯০০ আর ২১০০ নয়।

কয়েকটা ঐতিহাসিক দিনের বার

তারিখবার
২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২বৃহস্পতিবার
২৬ মার্চ ১৯৭১শুক্রবার
১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১বৃহস্পতিবার
১ জানুয়ারি ২০০১সোমবার

পরীক্ষার ফাঁদ

  • ৩টা ১৫-তে কোণ ০° ভাবা। ঘণ্টার কাঁটা ১৫ মিনিটে ৭.৫° এগিয়ে যায়।
  • ১২ ঘণ্টায় কাঁটা ১২ বার মিলে ভাবা। আসলে ১১ বার (১১টা থেকে ১টার মধ্যে একবারই, ঠিক ১২টায়)।
  • ১৯০০ সালকে অধিবর্ষ ধরা।
  • “২৪ ঘণ্টায় কতবার সমকোণ” প্রশ্নে ৪৮ লেখা। সঠিক ৪৪।

নিজেকে যাচাই করুন