ঘূর্ণিঝড় ও সতর্কসংকেত: বাঁ-ডান-ওপর, দুবার

এই পাঠের তথ্য উৎস মিলিয়ে লেখা ও প্রথমবার যাচাই করা হয়েছে; কয়েক দিন পর দ্বিতীয়বার যাচাই চলছে। কোথাও ভুল চোখে পড়লে নিচের “ভুল জানান” বাক্সে লিখুন।

বঙ্গোপসাগরের পাড়ে থাকায় ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর একটি। বিসিএসে দুই ধরনের প্রশ্ন আসে: বড় ঘূর্ণিঝড়গুলো কবে হয়েছিল, আর সতর্কসংকেতের কোন নম্বরের কী মানে। দ্বিতীয়টা দেখতে কঠিন, কিন্তু এর ভেতরে একটা সুন্দর প্যাটার্ন লুকানো আছে।

সমুদ্রবন্দরের ১১টি সংকেত

সংকেতনাম
১দূরবর্তী সতর্ক সংকেত
২দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত
৩স্থানীয় সতর্ক সংকেত
৪স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত
৫, ৬, ৭বিপদ সংকেত
৮, ৯, ১০মহাবিপদ সংকেত
১১যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন সংকেত

প্যাটার্ন: বাঁ, ডান, ওপর

৫ থেকে ১০ পর্যন্ত ছয়টা সংকেত আসলে দুই দলে তিনটা করে, আর প্রতি দলে একই নিয়ম:

ঝড় উপকূল পার হবে…বিপদমহাবিপদ
বন্দরকে বাঁ দিকে রেখে৫৮
বন্দরকে ডান দিকে রেখে৬৯
বন্দরের ওপর বা খুব কাছ দিয়ে৭১০

মনে রাখার লাইন: বাঁ-ডান-ওপর, দুবার।
বিপদ মানে ঘণ্টায় ৬২–৮৮ কিমি বাতাস, মহাবিপদ মানে ৮৯ কিমি বা তার বেশি।

আর ১১ নম্বর মানে আবহাওয়া কেন্দ্রের সাথে সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, আর স্থানীয় কর্মকর্তারা পরিস্থিতিকে অত্যন্ত দুর্যোগপূর্ণ মনে করছেন।

ইতিহাসের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়

ঘূর্ণিঝড়সময়আনুমানিক মৃত্যু
ভোলা ঘূর্ণিঝড়নভেম্বর ১৯৭০৫ লাখের বেশি
১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়১৯৯১প্রায় ১.৪ লাখ
সিডর১৫ নভেম্বর ২০০৭৩,৩৬৩

১৯৭০ সালের ভোলা ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এর মাত্র কয়েক সপ্তাহ পরই ছিল ১৯৭০ সালের জাতীয় নির্বাচন।

পরীক্ষার ফাঁদ

  • বিপদ বনাম মহাবিপদ: ৫-৭ বিপদ, ৮-১০ মহাবিপদ। ৮ থেকেই “মহা” শুরু।
  • ৫ বনাম ৮: দুটোতেই বন্দর বাঁ দিকে, পার্থক্য শুধু ঝড়ের শক্তিতে।
  • ১১ নম্বর সবচেয়ে বড় বিপদ নয়, এটা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সংকেত।
  • ভোলা ঘূর্ণিঝড় ১৯৭০, সিডর ২০০৭। দুটো গুলিয়ে ফেলবেন না।

নিজেকে যাচাই করুন

তথ্যের উৎস