বাংলাদেশের জলবায়ু ও ঋতু: দুই লালের গল্প

এই পাঠের তথ্য উৎস মিলিয়ে লেখা ও প্রথমবার যাচাই করা হয়েছে; কয়েক দিন পর দ্বিতীয়বার যাচাই চলছে। কোথাও ভুল চোখে পড়লে নিচের “ভুল জানান” বাক্সে লিখুন।

বাংলাদেশের জলবায়ু নিয়ে প্রশ্নগুলো প্রায় সবসময় “সবচেয়ে” দিয়ে শুরু হয়: সবচেয়ে গরম মাস, সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি কোথায়, সবচেয়ে ঠান্ডা কোথায়। আজ এই “সবচেয়ে”গুলো একটা মজার মিলের সাহায্যে মনে রাখব।

জলবায়ুর ধরন

বাংলাদেশের জলবায়ু ক্রান্তীয় মৌসুমি। মৌসুমি মানে ঋতু বদলের সাথে বাতাসের দিক বদলায়, আর বর্ষাকালে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়।

ঋতু: ছয় না তিন?

বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী বাংলাদেশ ছয় ঋতুর দেশ: গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত, বসন্ত, প্রতিটি দুই মাসের। তবে আবহাওয়াবিদেরা বৃষ্টি আর তাপমাত্রা ধরে মূলত তিনটি ঋতু ধরেন:

ঋতুসময়
শুষ্ক শীতকালনভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি
প্রাক-মৌসুমি গ্রীষ্মকালমার্চ থেকে মে
বর্ষাকাল (মৌসুমি)জুন থেকে অক্টোবর

প্রাক-মৌসুমি সময়ের বজ্রঝড় কালবৈশাখী, যা বছরের মোট বৃষ্টির একটা অংশ নিয়ে আসে।

মাসের “সবচেয়ে”

এপ্রিল সবচেয়ে গরম, জানুয়ারি সবচেয়ে ঠান্ডা।

জায়গার “সবচেয়ে”: দুই লাল

লালাখালে খুব জল, লালপুরে খুব রোদ।

  • সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি: সিলেটের লালাখাল এলাকা (কিছু উৎসে “লালখান” বানানে লেখা)। সাধারণভাবে সিলেটের উত্তরাঞ্চল আর দক্ষিণ-পূর্বের কক্সবাজার-বান্দরবানে বছরে বৃষ্টি সবচেয়ে বেশি।
  • সবচেয়ে কম বৃষ্টি আর সবচেয়ে গরম: নাটোরের লালপুর। জেলা হিসেবে সবচেয়ে গরম রাজশাহী; গ্রীষ্মে রাজশাহী আর কুষ্টিয়ার কিছু জায়গায় তাপমাত্রা ৪০° সেলসিয়াস ছাড়ায়।
  • সবচেয়ে ঠান্ডা: প্রচলিত বইয়ে শ্রীমঙ্গল (জেলা হিসেবে সিলেট)। ডিসেম্বরের শেষ আর জানুয়ারির শুরুতে দেশের উত্তর-পশ্চিম ও উত্তর-পূর্বে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৪–৭° সেলসিয়াসে নামে।

পরীক্ষার ফাঁদ

  • লালাখাল বনাম লালপুর: দুটোই “লাল” দিয়ে শুরু। মনে রাখার কৌশল: খাল মানে পানি, তাই বৃষ্টি; পুর শুনলে ভাবুন পোড়া রোদ।
  • উষ্ণতম মাস এপ্রিল, মে বা জুন নয়।
  • ছয় ঋতু বনাম তিন ঋতু: প্রশ্নে “আবহাওয়াবিদদের মতে” থাকলে তিন।
  • জলবায়ু “নাতিশীতোষ্ণ” নয়, ক্রান্তীয় মৌসুমি।

নিজেকে যাচাই করুন

তথ্যের উৎস