জলবায়ু পরিবর্তন: পৃথিবীর গায়ে কাচের চাদর

এই পাঠের তথ্য উৎস মিলিয়ে লেখা ও প্রথমবার যাচাই করা হয়েছে; কয়েক দিন পর দ্বিতীয়বার যাচাই চলছে। কোথাও ভুল চোখে পড়লে নিচের “ভুল জানান” বাক্সে লিখুন।

গ্রিনহাউসের কাচ সূর্যের আলো ঢুকতে দেয়, কিন্তু ভেতরের তাপ বের হতে দেয় না। বায়ুমণ্ডলের কিছু গ্যাস ঠিক এই কাচের মতো কাজ করে। পরিমিত থাকলে পৃথিবী বাসযোগ্য উষ্ণ থাকে; বেশি হয়ে গেলে পৃথিবী গরম হতে থাকে। দীর্ঘমেয়াদে আবহাওয়ার এই বদলই জলবায়ু পরিবর্তন।

গ্রিনহাউস গ্যাস

গ্যাসপ্রধান উৎস
কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂)কয়লা, তেল, গ্যাস পোড়ানো; বন উজাড়
মিথেন (CH₄)ধানক্ষেত, গবাদিপশু, ময়লার ভাগাড়
নাইট্রাস অক্সাইড (N₂O)রাসায়নিক সার
সিএফসি (CFC)পুরনো ফ্রিজ-এসি; ওজোন স্তরেরও ক্ষতি করে

কৌশল: “কা-মি-না-সি”: কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন, নাইট্রাস অক্সাইড, সিএফসি।

বিশ্বের সাড়া: সময়রেখা

সালঘটনা
১৯৮৮জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে আন্তঃসরকার প্যানেল (IPCC) গঠন করে
১৯৯২রিও ডি জেনিরোর “ধরিত্রী সম্মেলনে” জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক কাঠামো সনদ (UNFCCC)
১৯৯৫প্রথম কপ (COP) সম্মেলন; তারপর থেকে প্রতি বছর
১৯৯৭কিয়োটো প্রটোকল: শিল্পোন্নত দেশগুলোর গড়ে ১৯৯০-এর তুলনায় ৫.২% নির্গমন কমানোর লক্ষ্য
২০০৭IPCC ও আল গোর যৌথভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান
২০১৫প্যারিস চুক্তি: উষ্ণতা ২°C-এর “অনেক নিচে”, সম্ভব হলে ১.৫°C-এ রাখার অঙ্গীকার
২০২৩দুবাইয়ে COP28: জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত

বাংলাদেশের পরিকল্পনা

  • বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন কৌশল ও কর্মপরিকল্পনা (BCCSAP): সেপ্টেম্বর ২০০৯-এ অনুমোদিত।
  • বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ (ডেল্টা প্ল্যান): দীর্ঘমেয়াদি পানি ও জলবায়ু পরিকল্পনা।
  • জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (NAP): প্রক্রিয়া শুরু মে ২০১৯-এ।
  • দেশের নিজস্ব অর্থে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড গঠন।

পরীক্ষার ফাঁদ

  • IPCC আর UNFCCC গুলিয়ে ফেলা। IPCC (১৯৮৮) বিজ্ঞানীদের প্যানেল, প্রতিবেদন দেয়; UNFCCC (১৯৯২) দেশগুলোর চুক্তি।
  • কিয়োটো প্রটোকলে উন্নয়নশীল দেশেরও বাধ্যতামূলক লক্ষ্য ছিল ভাবা। বাধ্যতামূলক লক্ষ্য ছিল শুধু শিল্পোন্নত দেশের।
  • প্যারিস চুক্তির লক্ষ্য শুধু ১.৫°C লেখা। লক্ষ্য ২°C-এর অনেক নিচে, সম্ভব হলে ১.৫°C।

নিজেকে যাচাই করুন