এই পাঠের তথ্য উৎস মিলিয়ে লেখা ও প্রথমবার যাচাই করা হয়েছে; কয়েক দিন পর দ্বিতীয়বার যাচাই চলছে। কোথাও ভুল চোখে পড়লে নিচের “ভুল জানান” বাক্সে লিখুন।
যশোরের সাগরদাঁড়ির এক তরুণের স্বপ্ন ছিল ইংরেজি ভাষার বড় কবি হওয়া। প্রথম বড় কাব্য লিখলেন ইংরেজিতেই: The Captive Ladie (১৮৪৯)। তারপর ফিরলেন মাতৃভাষায়, আর বাংলা কবিতাকে দিলেন দুটো নতুন জিনিস: অমিত্রাক্ষর ছন্দ আর সনেট। তিনি মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
এক নজরে
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| জন্ম | ২৫ জানুয়ারি ১৮২৪, সাগরদাঁড়ি, যশোর |
| মৃত্যু | ২৯ জুন ১৮৭৩, কলকাতা |
| খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ | ১৮৪৩; তখন থেকে নামের আগে “মাইকেল” |
| প্রধান অবদান | বাংলা কবিতায় অমিত্রাক্ষর ছন্দ (blank verse) ও সনেট (চতুর্দশপদী কবিতা) প্রবর্তন |
রচনা: ধরন অনুযায়ী
| ধরন | রচনা (সাল) |
|---|---|
| নাটক | শর্মিষ্ঠা, পদ্মাবতী (১৮৬০), কৃষ্ণকুমারী (১৮৬১) |
| প্রহসন | একেই কি বলে সভ্যতা, বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ (১৮৫৯) |
| কাব্য | তিলোত্তমাসম্ভব, মেঘনাদবধ কাব্য (১৮৬১), ব্রজাঙ্গনা (১৮৬১), বীরাঙ্গনা (১৮৬২) |
| সনেট সংকলন | চতুর্দশপদী কবিতাবলী (১৮৬৬) |
| ইংরেজি কাব্য | The Captive Ladie (১৮৪৯) |
মনে রাখার কৌশল: “৬১-তে মেঘনাদ মরল।” মেঘনাদবধ কাব্য ১৮৬১। আর “৬৬-তে চৌদ্দ লাইন”: চতুর্দশপদী কবিতাবলী ১৮৬৬।
মেঘনাদবধ কাব্য
মধুসূদনের সবচেয়ে বিখ্যাত রচনা, একটি মহাকাব্য, পুরোটাই অমিত্রাক্ষর ছন্দে লেখা।
যেখানে উৎসগুলো একমত নয়
- শর্মিষ্ঠা নাটকের সাল: কোথাও ১৮৫৮ (রচনা), কোথাও ১৮৫৯ (প্রকাশ বা মঞ্চায়ন)। প্রশ্নের বিকল্প দেখে সিদ্ধান্ত নিন।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রথম ব্যবহার: বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী পদ্মাবতী নাটকে (১৮৬০); অন্য উৎসে শর্মিষ্ঠায় প্রথম চেষ্টার কথা বলা হয়। তিলোত্তমাসম্ভব আর মেঘনাদবধ কাব্যেও তিনি এই ছন্দ ব্যবহার করেন।
পরীক্ষার ফাঁদ
- মেঘনাদবধকে নাটক ভাবা। এটা মহাকাব্য।
- চতুর্দশপদী মানে ১২ লাইন ভাবা। চতুর্দশ = ১৪ লাইন (সনেট)।
- মধুসূদনের জন্মস্থান কলকাতা লেখা। জন্ম যশোরের সাগরদাঁড়িতে; মৃত্যু কলকাতায়।
- “একেই কি বলে সভ্যতা”-কে নাটক বলা। এটা প্রহসন।