প্রমিত বানানের নিয়ম: শ্রেণী নয়, শ্রেণি

এই পাঠের তথ্য উৎস মিলিয়ে লেখা ও প্রথমবার যাচাই করা হয়েছে; কয়েক দিন পর দ্বিতীয়বার যাচাই চলছে। কোথাও ভুল চোখে পড়লে নিচের “ভুল জানান” বাক্সে লিখুন।

একজন লিখল “শ্রেণী”, আরেকজন “শ্রেণি”। দুজনেই কি ঠিক? বাংলা একাডেমির প্রমিত বানানের নিয়ম বলে, এখন লিখতে হবে “শ্রেণি”। বানানের এই মান ঠিক করে দেওয়া নিয়মগুলো BCS-এ প্রায় প্রতিবার আসে।

প্রধান নিয়মগুলো

নিয়মউদাহরণ
তৎসম শব্দের বানান ব্যাকরণ অনুযায়ী অপরিবর্তিত থাকবেসূর্য, পৃথিবী, নদী (তৎসমে ঈ থাকলে থাকবে)
যেখানে ই/ঈ বা উ/ঊ দুটোই শুদ্ধ, সেখানে শুধু ই-কার ও উ-কারশ্রেণি, পল্লি, বাড়ি
বিদেশি শব্দে ই-কারএকাডেমি, স্টুডিও
বিদেশি শব্দে প্রয়োজনে “অ্যা”অ্যাকাউন্ট, অ্যাসিড
রেফের পর ব্যঞ্জনের দ্বিত্ব হবে নাকার্য (কার্য্য নয়), ধর্ম (ধর্ম্ম নয়)
শব্দের শেষে বিসর্গ বসবে নামূলত, প্রধানত (মূলতঃ নয়)
শব্দের শেষে ং, স্বর যুক্ত হলে ঙরং → রঙিন; বাংলা → বাঙালি

কৌশল: “সন্দেহ হলে ই-কার।” দুই রূপই চললে বা বিদেশি শব্দ হলে হ্রস্ব ই-কার। কিন্তু তৎসম শব্দে সংস্কৃতের নিয়মই চলবে।

রং বনাম রঙ

শব্দের শেষে অনুস্বার: রং, সং, ঢং। কিন্তু এর সাথে স্বর যুক্ত হলে ঙ: রঙিন, রঙের, বাঙালি, ভাঙা।

পরীক্ষার ফাঁদ

  • “শ্রেণী”, “পল্লী” বেছে নেওয়া। প্রমিত রূপ শ্রেণি, পল্লি।
  • “একাডেমী” বেছে নেওয়া। বিদেশি শব্দে ই-কার: একাডেমি।
  • “কার্য্য” বেছে নেওয়া। রেফের পর দ্বিত্ব হবে না: কার্য।
  • “প্রধানতঃ” বেছে নেওয়া। শব্দের শেষে বিসর্গ নেই: প্রধানত।
  • “রংগিন” বা “রঙ্গিন” বেছে নেওয়া। সঠিক রঙিন।

যেকোনো শব্দের প্রমিত বানান মিলিয়ে নিতে বাংলা একাডেমির অনলাইন বানান অভিধান (spell.bangla.gov.bd) দেখতে পারেন।

নিজেকে যাচাই করুন