এই পাঠের তথ্য উৎস মিলিয়ে লেখা ও প্রথমবার যাচাই করা হয়েছে; কয়েক দিন পর দ্বিতীয়বার যাচাই চলছে। কোথাও ভুল চোখে পড়লে নিচের “ভুল জানান” বাক্সে লিখুন।
আগস্ট ২০১৭। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযানের পর কয়েক সপ্তাহের মধ্যে লাখো মানুষ নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢুকল। হাতে পুঁটলি, কোলে শিশু। এরা রোহিঙ্গা, মিয়ানমারের মূলত মুসলিম এক সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী, যাদের নিজের দেশ নাগরিকত্ব দেয় না।
মূল তথ্য
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| কারা | রাখাইন রাজ্যের মূলত মুসলিম সংখ্যালঘু; ১৯৮০-এর দশকে নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হয় |
| ২০১৭-এর ঢল | আগস্ট ২০১৭-এর সেনা অভিযানের পর ৭ লাখের বেশি মানুষ বাংলাদেশে আসে |
| এখন বাংলাদেশে | প্রায় ১২–১৩ লাখ; কক্সবাজারের ৩৩টি ক্যাম্পে ও ভাসানচরে (২০২৬ সালের হিসাব, উৎসভেদে কিছুটা ভিন্ন) |
| প্রত্যাবাসন | এখনো কার্যত হয়নি; মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ ফেরার পরিবেশ তৈরি হয়নি |
আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (ICJ) মামলা
| সময় | ঘটনা |
|---|---|
| নভেম্বর ২০১৯ | গাম্বিয়া ওআইসি-র সমর্থনে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যা সনদ লঙ্ঘনের মামলা করে |
| জানুয়ারি ২০২০ | অন্তর্বর্তী আদেশ: মিয়ানমারকে গণহত্যামূলক কাজ ঠেকাতে ও প্রমাণ সংরক্ষণ করতে নির্দেশ |
| ১২–২৯ জানুয়ারি ২০২৬ | মামলার মূল (merits) শুনানি |
| ১৯ নভেম্বর ২০২৬ | রায় ঘোষণার নির্ধারিত দিন; রায় চূড়ান্ত, আপিলের সুযোগ নেই |
আদালত ১১টি দেশকে সীমিত বিষয়ে মামলায় অংশ নেওয়ার (intervene) অনুমতি দিয়েছে, যেমন কানাডা, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাজ্য, মালদ্বীপ। মামলাটা ব্যক্তির অপরাধের বিচার নয়, রাষ্ট্রের দায় নির্ধারণের।
কৌশল: “গাম্বিয়া বাদী, মিয়ানমার বিবাদী, হেগে আদালত।” আর মনে রাখুন, মামলাটা বাংলাদেশ করেনি, করেছে আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া।
পরীক্ষার ফাঁদ
- ICJ-তে মামলা বাংলাদেশ করেছে ভাবা। করেছে গাম্বিয়া।
- ICJ আর ICC গুলিয়ে ফেলা। ICJ রাষ্ট্রের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তি করে; ICC ব্যক্তির অপরাধের বিচার করে।
- রোহিঙ্গা ঢল শুধু ২০১৭-তে হয়েছিল ভাবা। আগেও এসেছে, আর ২০২৪-এর পরও নতুন আগমন ঘটেছে।
দ্রষ্টব্য: ১৯ নভেম্বর ২০২৬-এর রায়ের পর এই পাঠ হালনাগাদ করা হবে।