এই পাঠের তথ্য উৎস মিলিয়ে লেখা ও প্রথমবার যাচাই করা হয়েছে; কয়েক দিন পর দ্বিতীয়বার যাচাই চলছে। কোথাও ভুল চোখে পড়লে নিচের “ভুল জানান” বাক্সে লিখুন।
গরম চায়ের কাপে চামচ রাখলে হাতলটাও গরম হয়ে যায়। চুলায় পানি গরম করলে নিচের পানি উপরে ওঠে। আর রোদে দাঁড়ালে শরীর গরম হয়, অথচ সূর্য আর আমাদের মাঝে প্রায় পুরোটাই ফাঁকা। তাপ চলার এই তিন পথই এই পাঠের গল্প।
তাপ আর তাপমাত্রা এক নয়
- তাপমাত্রা: বস্তুর কণাগুলোর গড় গতিশক্তির পরিমাপ; থার্মোমিটার দিয়ে মাপা হয়।
- তাপ: এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় তাপশক্তির চলাচল।
তাপ চলার তিন পথ
| পথ | কীভাবে | উদাহরণ |
|---|---|---|
| পরিবহন (conduction) | কণার সাথে কণার ধাক্কায়; মাধ্যম নড়ে না | চায়ের চামচের হাতল গরম হওয়া |
| পরিচলন (convection) | গরম তরল বা গ্যাস হালকা হয়ে উপরে ওঠে, ঠান্ডা অংশ নিচে নামে | চুলায় পানি গরম হওয়া |
| বিকিরণ (radiation) | মাধ্যম ছাড়াই, অবলোহিত রশ্মি হিসেবে | সূর্যের তাপ পৃথিবীতে আসা |
কৌশল: “পরিবহনে পাশের জন, পরিচলনে পুরো দল চলে, বিকিরণে বিনা মাধ্যমে।”
তাপমাত্রার তিন স্কেল
সূত্র: F = C × ৯/৫ + ৩২, আর K = C + ২৭৩ (সূক্ষ্মভাবে ২৭৩.১৫)।
| ঘটনা | সেলসিয়াস | ফারেনহাইট | কেলভিন |
|---|---|---|---|
| পানি জমে বরফ | ০° | ৩২° | ২৭৩ |
| মানুষের দেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা | ৩৭° | ৯৮.৬° | ৩১০ |
| পানি ফোটে (সমুদ্রপৃষ্ঠে) | ১০০° | ২১২° | ৩৭৩ |
| দুই স্কেলে সমান | −৪০° | −৪০° | ২৩৩ |
মনে রাখুন: সেলসিয়াস আর ফারেনহাইট মেলে একটাই জায়গায়: −৪০।
পানির বিশেষত্ব
পানির আপেক্ষিক তাপ (১ ক্যালরি/গ্রাম/°C, প্রায় ৪.১৮৬ জুল/গ্রাম/°C) সাধারণ পদার্থগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি। তাই পানি ধীরে গরম হয়, ধীরে ঠান্ডা হয়; সমুদ্রের কাছের এলাকায় তাপমাত্রা তাই কম ওঠানামা করে। আর অবস্থার পরিবর্তনের সময় (যেমন বরফ গলার সময়) তাপ দিলেও তাপমাত্রা বাড়ে না।
পরীক্ষার ফাঁদ
- তাপ আর তাপমাত্রাকে একই ভাবা।
- বিকিরণে মাধ্যম লাগে ভাবা। বিকিরণ শূন্যস্থান পেরিয়েও আসে।
- ৩৭°C কে ৯৯°F লেখা। সঠিক ৯৮.৬°F।
- কেলভিন স্কেলে ডিগ্রি চিহ্ন বসানো। লেখা হয় শুধু K (যেমন ৩০০ K)।