এই পাঠের তথ্য উৎস মিলিয়ে লেখা ও প্রথমবার যাচাই করা হয়েছে; কয়েক দিন পর দ্বিতীয়বার যাচাই চলছে। কোথাও ভুল চোখে পড়লে নিচের “ভুল জানান” বাক্সে লিখুন।
১৮৯৬ সাল, প্যারিস। অঁরি বেকেরেল ইউরেনিয়ামের যৌগ নিয়ে কাজ করতে গিয়ে দেখলেন, ড্রয়ারে রাখা ফটোগ্রাফিক প্লেট আলো ছাড়াই কালো হয়ে গেছে। ইউরেনিয়াম নিজে থেকেই অদৃশ্য রশ্মি ছাড়ছিল। এভাবেই আবিষ্কৃত হলো তেজস্ক্রিয়তা।
ইতিহাস
| সাল | ঘটনা |
|---|---|
| ১৮৯৬ | অঁরি বেকেরেল তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন (ইউরেনিয়াম নিয়ে কাজের সময়) |
| ১৮৯৮ | মেরি ও পিয়ের কুরি পোলোনিয়াম ও রেডিয়াম পৃথক করেন; “তেজস্ক্রিয়তা” নামটি মেরি কুরির দেওয়া |
| পরে | আর্নেস্ট রাদারফোর্ড রশ্মিগুলোর নাম দেন আলফা, বিটা, গামা |
তিন রশ্মি
| রশ্মি | আসলে কী | চার্জ | ভেদন ক্ষমতা |
|---|---|---|---|
| আলফা (α) | হিলিয়াম নিউক্লিয়াস | ধনাত্মক (+২) | সবচেয়ে কম; এক টুকরা কাগজেই থামে |
| বিটা (β) | নিউক্লিয়াস থেকে বের হওয়া ইলেকট্রন | ঋণাত্মক (−১) | মাঝারি; পাতলা অ্যালুমিনিয়াম পাতে থামে |
| গামা (γ) | উচ্চশক্তির ফোটন (তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গ) | চার্জহীন | সবচেয়ে বেশি; কয়েক সেমি সিসা বা কয়েক মিটার কংক্রিট লাগে |
কৌশল: “কাগজে আলফা, অ্যালুমিনিয়ামে বিটা, সিসায় গামা।” আর গ্রিক বর্ণের ক্রম (α, β, γ) মানেই ভেদন ক্ষমতা বাড়ার ক্রম।
অর্ধায়ু (Half-life)
যত সময়ে কোনো তেজস্ক্রিয় পদার্থের অর্ধেক পরমাণু ক্ষয় হয়, সেটাই তার অর্ধায়ু। যেমন আয়োডিন-১৩১-এর অর্ধায়ু ৮ দিন: ১ গ্রাম থেকে ৮ দিন পর থাকে ০.৫ গ্রাম, ১৬ দিন পর ০.২৫ গ্রাম।
- ৮০ গ্রাম পদার্থ, অর্ধায়ু ৫ দিন: ১৫ দিন (৩টা অর্ধায়ু) পর থাকবে ৮০ → ৪০ → ২০ → ১০ গ্রাম।
- ১৬০ গ্রাম, অর্ধায়ু ২ দিন: ৮ দিন (৪টা অর্ধায়ু) পর থাকবে ১০ গ্রাম।
পরীক্ষার ফাঁদ
- তেজস্ক্রিয়তার আবিষ্কারক মেরি কুরি লেখা। আবিষ্কারক বেকেরেল; নামটা মেরি কুরির।
- গামা রশ্মিকে চার্জযুক্ত কণা ভাবা। গামা চার্জহীন ফোটন।
- অর্ধায়ুর দ্বিগুণ সময়ে সব শেষ হয়ে যায় ভাবা। দুই অর্ধায়ুতে থাকে এক-চতুর্থাংশ।