শুদ্ধাচার কৌশল ও তথ্য অধিকার: নাগরিকের দুই হাতিয়ার

এই পাঠের তথ্য উৎস মিলিয়ে লেখা ও প্রথমবার যাচাই করা হয়েছে; কয়েক দিন পর দ্বিতীয়বার যাচাই চলছে। কোথাও ভুল চোখে পড়লে নিচের “ভুল জানান” বাক্সে লিখুন।

একজন নাগরিক জানতে চাইলেন, তাঁর গ্রামের রাস্তার জন্য কত টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। আগে এ প্রশ্নের উত্তর পাওয়া ছিল ভাগ্যের ব্যাপার। এখন এটা তাঁর আইনি অধিকার। সুশাসনের দুটো বড় হাতিয়ার এই পাঠে: জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল আর তথ্য অধিকার আইন।

জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল

বিষয়তথ্য
মন্ত্রিসভার অনুমোদন১৮ অক্টোবর ২০১২
শুদ্ধাচার মানেনৈতিকতা ও সততা দ্বারা প্রভাবিত আচরণগত উৎকর্ষ; সমাজের দীর্ঘদিনের মানদণ্ড, নীতি ও প্রথার প্রতি আনুগত্যও এর অংশ
রূপকল্পসুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা
অভিলক্ষ্যরাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা
আওতাভুক্ত প্রতিষ্ঠানমোট ১৬টি: রাষ্ট্রীয় ১০টি, অরাষ্ট্রীয় ৬টি
সমন্বয়কারীমন্ত্রিপরিষদ বিভাগ
উপদেষ্টা পরিষদকৌশলপত্র অনুযায়ী জাতীয় শুদ্ধাচার উপদেষ্টা পরিষদ, সভাপতি সরকারপ্রধান (প্রধানমন্ত্রী)

রাষ্ট্রীয় ১০ প্রতিষ্ঠান: নির্বাহী বিভাগ ও জনপ্রশাসন, জাতীয় সংসদ, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন, অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়, সরকারি কর্ম কমিশন, মহাহিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, ন্যায়পাল, দুর্নীতি দমন কমিশন, স্থানীয় সরকার।

অরাষ্ট্রীয় ৬ প্রতিষ্ঠান: রাজনৈতিক দল, বেসরকারি শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, এনজিও ও সুশীল সমাজ, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম।

কৌশল: “১৬ = ১০ + ৬”। আর অরাষ্ট্রীয় তালিকায় “পরিবার” আছে, এটা পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।

তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯

এটা ২০০৯ সালের ২০ নম্বর আইন, তারিখ ৬ এপ্রিল ২০০৯।

পরিস্থিতিতথ্য দেওয়ার সময়সীমা
সাধারণ অনুরোধ২০ কার্যদিবস
একাধিক ইউনিট বা কর্তৃপক্ষ জড়িত৩০ কার্যদিবস
কারও জীবন-মৃত্যু, গ্রেফতার বা কারামুক্তি সংক্রান্ত২৪ ঘণ্টা (প্রাথমিক তথ্য)
তথ্য দিতে না পারলে কারণ জানানো১০ কার্যদিবস

কৌশল: “২০-৩০-২৪”: সাধারণে ২০ দিন, একাধিক ইউনিটে ৩০ দিন, জীবনের প্রশ্নে ২৪ ঘণ্টা।

বিষয়তথ্য
আপিল দায়ের৩০ দিনের মধ্যে
আপিল নিষ্পত্তি১৫ দিনের মধ্যে
তথ্য কমিশনের সদস্য৩ জন: প্রধান তথ্য কমিশনার + ২ জন কমিশনার; অন্তত ১ জন নারী
কমিশনারের মেয়াদ৫ বছর বা ৬৭ বছর বয়স, যেটা আগে; পুনর্নিয়োগ নয়
অভিযোগ নিষ্পত্তিসাধারণত ৪৫ দিন, সর্বোচ্চ ৭৫ দিন
যেসব তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক নয় (ধারা ৭)২০টি বিষয়: যেমন জাতীয় নিরাপত্তা, পররাষ্ট্রনীতি, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, বিচারাধীন মামলা, মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকের তথ্য

পরীক্ষার ফাঁদ

  • শুদ্ধাচার কৌশলের সাল ২০০৯ লেখা। তথ্য অধিকার আইন ২০০৯; শুদ্ধাচার কৌশল ২০১২।
  • আওতাভুক্ত প্রতিষ্ঠান ১০ বা ৬ লেখা। মোট ১৬টি।
  • জীবন-মৃত্যুর তথ্যে ২৪ কার্যদিবস লেখা। এটা ২৪ ঘণ্টা।
  • তথ্য কমিশনে ৫ জন সদস্য ভাবা। মোট ৩ জন।

নিজেকে যাচাই করুন

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন: এই ভাগের সব পাঠ৫ / ৭
  1. নৈতিকতা: কেউ না দেখলেও যে বোধ থামায়
  2. মূল্যবোধ: মানব আচরণের অলিখিত দলিল
  3. দার্শনিকদের মতবাদ: ফল, কর্তব্য না চরিত্র?
  4. সুশাসন: সংজ্ঞা আর আট বৈশিষ্ট্য
  5. শুদ্ধাচার কৌশল ও তথ্য অধিকার: নাগরিকের দুই হাতিয়ার (এখন পড়ছেন)
  6. সুশাসনের অভাব ও দুর্নীতি: ১০০-তে ২৪
  7. নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন: শিকড়, কাণ্ড আর ফল
নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন ভাগের পাতায় যান →