এই পাঠের তথ্য উৎস মিলিয়ে লেখা ও প্রথমবার যাচাই করা হয়েছে; কয়েক দিন পর দ্বিতীয়বার যাচাই চলছে। কোথাও ভুল চোখে পড়লে নিচের “ভুল জানান” বাক্সে লিখুন।
১৮০০ সালের কলকাতা। ইংল্যান্ড থেকে আসা তরুণ ইংরেজ কর্মকর্তারা এ দেশের ভাষা জানেন না, অথচ দেশ চালাতে হবে। তাঁদের ভাষা শেখাতে লর্ড ওয়েলেসলি খুললেন একটা কলেজ। কলেজের উদ্দেশ্য ছিল শাসন, কিন্তু তার পার্শ্বফল হলো এক বিরাট ঘটনা: বাংলা গদ্যের প্রথম পাঠ্যবইগুলো এখান থেকেই বের হলো।
এক নজরে
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| প্রতিষ্ঠা | ১৮০০ সাল (১৮ আগস্ট), কলকাতা |
| প্রতিষ্ঠাতা | গভর্নর জেনারেল লর্ড ওয়েলেসলি |
| উদ্দেশ্য | ইংরেজ সিভিলিয়ানদের দেশীয় ভাষা ও রীতি শেখানো |
| বাংলা বিভাগ | ১৮০১ সালের মে মাসে চালু; প্রধান উইলিয়াম কেরি |
| বিলুপ্তি | ১৮৫৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত (লর্ড ডালহৌসির আমলে) |
কেরি আর তাঁর পণ্ডিতেরা
উইলিয়াম কেরি ছিলেন খ্রিষ্টান মিশনারি। শ্রীরামপুরে তাঁর ছাপাখানা (শ্রীরামপুর মিশন প্রেস) ছিল বলে বই ছাপানো সহজ হলো। কেরির অধীনে কয়েকজন বাঙালি পণ্ডিত ও মুনশি ছাত্রদের জন্য বই লিখলেন:
| লেখক | বই | সাল |
|---|---|---|
| রামরাম বসু | রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র | ১৮০১ |
| রামরাম বসু | লিপিমালা (চিঠি লেখার নমুনা) | ১৮০২ |
| মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার | বত্রিশ সিংহাসন | ১৮০২ |
| মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার | হিতোপদেশ, রাজাবলি | ১৮০৮ |
| উইলিয়াম কেরি | বাংলা ব্যাকরণ ও অভিধান | — |
রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র-কে বাংলা গদ্যে লেখা প্রথম মৌলিক গ্রন্থ ধরা হয়। আর এই কলেজের পণ্ডিতদের মধ্যে মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারকে সবচেয়ে শক্তিমান গদ্যলেখক বলা হয়।
কৌশল: “রাম প্রথম, মৃত্যুঞ্জয় সেরা।” রামরাম বসু লিখলেন প্রথম মৌলিক গদ্যগ্রন্থ; মৃত্যুঞ্জয় ছিলেন সেরা গদ্যশিল্পী। আর কলেজের জীবন মনে রাখুন: ১৮০০ জন্ম, ১৮৫৪ মৃত্যু।
কেন গুরুত্বপূর্ণ
- বাংলা গদ্য তখন মূলত দলিল আর চিঠিতে সীমাবদ্ধ ছিল; এই কলেজের বইগুলো প্রথম গদ্যকে পাঠ্যবইয়ের রূপ দিল।
- ছাপাখানার সঙ্গে মিলে বই সহজে ছড়াল।
- তবে এই গদ্য ছিল আড়ষ্ট; বাংলা গদ্যে প্রাণ আর যতিচিহ্নের শৃঙ্খলা আনেন পরে বিদ্যাসাগর।
আরও পড়ুন: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর: যতিচিহ্নের জাদুকর · বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
পরীক্ষার ফাঁদ
- কলেজের প্রতিষ্ঠাতা উইলিয়াম কেরি লেখা। প্রতিষ্ঠাতা লর্ড ওয়েলেসলি; কেরি ছিলেন বাংলা বিভাগের প্রধান।
- বাংলা গদ্যের জনক আর প্রথম মৌলিক গদ্যগ্রন্থের লেখক গুলিয়ে ফেলা। “বাংলা গদ্যের জনক” বলা হয় বিদ্যাসাগরকে; প্রথম মৌলিক গদ্যগ্রন্থ রামরাম বসুর।
- কলেজ শ্রীরামপুরে ছিল ভাবা। কলেজ কলকাতায়; শ্রীরামপুরে ছিল কেরির মিশন ও ছাপাখানা।
নিজেকে যাচাই করুন
আধুনিক সাহিত্য: এই ভাগের সব পাঠ
- ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ: বাংলা গদ্যের প্রথম পাঠশালা (এখন পড়ছেন)
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর: যতিচিহ্নের জাদুকর
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত: অমিত্রাক্ষর আর চৌদ্দ লাইনের কবি
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: সাহিত্য সম্রাট
- মীর মশাররফ হোসেন: কারবালার বিষাদ-সিন্ধু
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: ভানুসিংহ থেকে নোবেল
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: অপরাজেয় কথাশিল্পী
- রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন: আট ছাত্রীর স্কুল
- জীবনানন্দ দাশ: রূপসী বাংলার কবি
- কাজী নজরুল ইসলাম: ১৯২২, বিস্ফোরণের বছর
- জসীমউদ্দীন: মাটির গন্ধমাখা পল্লিকবি
- ফররুখ আহমদ: সাত সাগরের মাঝি
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্: লালসালুর লেখক
- মুনীর চৌধুরী ও ভাষা আন্দোলনের সাহিত্য: জেলখানার “কবর”
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্য: রাইফেল থেকে গ্রেনেড
- শহীদুল্লা কায়সার ও জহির রায়হান: দুই ভাই, দুই নিখোঁজ
- শামসুর রাহমান: বন্দী শিবিরের কবি
- সেলিনা হোসেন: হাঙর নদী গ্রেনেড
- হুমায়ূন আহমেদ: হিমু আর মিসির আলির স্রষ্টা
- ছদ্মনাম ও উপাধি: লুকোনো নামের খেলা
- সাময়িকপত্র: দিগ্দর্শন থেকে সওগাত
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস: দুই উপন্যাসের রাজা