এই পাঠের তথ্য উৎস মিলিয়ে লেখা ও প্রথমবার যাচাই করা হয়েছে; কয়েক দিন পর দ্বিতীয়বার যাচাই চলছে। কোথাও ভুল চোখে পড়লে নিচের “ভুল জানান” বাক্সে লিখুন।
মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর বিসিএসে প্রায় নিয়মিত আসে, কিন্তু ১১টা এলাকা আর এতগুলো নাম মুখস্থ রাখা কঠিন। আজ একটা ম্যাপ, একটা দিক আর একটা ছড়া দিয়ে পুরোটা মনে রাখব।
পটভূমি
১৯৭১ সালের ১১ থেকে ১৭ জুলাই সেক্টর কমান্ডারদের সম্মেলনে যুদ্ধক্ষেত্রকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়। সম্মেলনে নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ ও প্রধান সেনাপতি কর্নেল এম এ জি ওসমানী।
গল্প: ঘড়ির কাঁটার উল্টো দিকে
বাংলাদেশের ম্যাপটা চোখের সামনে আনুন। একটা পেনসিল রাখুন একদম দক্ষিণ-পূর্ব কোণে, চট্টগ্রামে। এটাই ১ নম্বর।
এবার পেনসিল চালান সীমান্ত ধরে উপরের দিকে: কুমিল্লা-নোয়াখালী (২), তারপর হবিগঞ্জ-কিশোরগঞ্জ (৩), তারপর সিলেট (৪ ও ৫)। এরপর উত্তর সীমান্ত ধরে বাঁয়ে গিয়ে রংপুর (৬)। সেখান থেকে নিচে রাজশাহী (৭), কুষ্টিয়া-যশোর (৮), আর শেষে একদম দক্ষিণে বরিশাল (৯)।
খেয়াল করুন, পেনসিল ঘুরল ঘড়ির কাঁটার উল্টো দিকে। এক চক্কর শেষ, বাকি দুটো সহজ: ১০ নম্বর পানিতে (নদী আর বন্দর), আর ১১ নম্বর উত্তরের মাঝের ফাঁকা জায়গা, ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল।
এক নজরে ১১ সেক্টর
| সেক্টর | এলাকা | কমান্ডার |
|---|---|---|
| ১ | চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীর পূর্বাংশ | মেজর জিয়াউর রহমান, পরে রফিকুল ইসলাম |
| ২ | কুমিল্লা, নোয়াখালী এবং ঢাকা ও ফরিদপুরের অংশ | মেজর খালেদ মোশাররফ, পরে এ টি এম হায়দার |
| ৩ | হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ঢাকার অংশ | মেজর কে এম শফিউল্লাহ, পরে এ এন এম নূরুজ্জামান |
| ৪ | সিলেটের পূর্বাঞ্চল | মেজর সি আর দত্ত |
| ৫ | সুনামগঞ্জসহ সিলেটের উত্তর ও পশ্চিমাংশ | মেজর মীর শওকত আলী |
| ৬ | রংপুর ও দিনাজপুরের অংশ (ঠাকুরগাঁও) | উইং কমান্ডার এম কে বাশার |
| ৭ | রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া ও দিনাজপুরের অংশ | মেজর নাজমুল হক, পরে কাজী নূরুজ্জামান |
| ৮ | কুষ্টিয়া, যশোর এবং খুলনা ও ফরিদপুরের অংশ | মেজর আবু ওসমান চৌধুরী, পরে এম এ মঞ্জুর |
| ৯ | বরিশাল, পটুয়াখালী ও খুলনার দক্ষিণাংশ | মেজর এম এ জলিল |
| ১০ | নৌপথ ও সমুদ্রবন্দর (নৌ-কমান্ডো) | নিয়মিত সেক্টর কমান্ডার ছিল না |
| ১১ | ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল | মেজর আবু তাহের, পরে হামিদুল্লাহ খান |
মনে রাখার ছড়া
জিয়া খালেদ শফি দত্ত,
শওকত বাশার নাজমুল ভক্ত;
ওসমান জলিল নৌকা চড়ে,
তাহের এসে শেষ করে।
ছড়ায় ১ থেকে ১১ নম্বরের প্রথম কমান্ডারদের নাম ক্রমে আছে। “নৌকা চড়ে” মানে ১০ নম্বর নৌ-সেক্টর।
পরীক্ষার ফাঁদ
- ১০ নম্বরের কমান্ডার কে? পরীক্ষায় সঠিক উত্তর: নিয়মিত কোনো সেক্টর কমান্ডার ছিল না, নৌ-কমান্ডোরা সরাসরি প্রধান সেনাপতির অধীনে কাজ করতেন। কিছু বইয়ে আলাদা নাম পাওয়া যায়, তাই বিকল্পে “কেউ ছিলেন না” থাকলে সেটাই বেছে নিন।
- ১১ নম্বরে দুজন: মেজর আবু তাহের নভেম্বরে গুরুতর আহত হলে দায়িত্ব নেন হামিদুল্লাহ খান।
- বিমানবাহিনীর কমান্ডার: ৬ নম্বরের এম কে বাশার ছিলেন উইং কমান্ডার, অর্থাৎ বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা।
- তিন ফোর্স: পরে তিন সেক্টর কমান্ডারের নামে তিনটি ব্রিগেড হয়: জেড ফোর্স (জিয়াউর রহমান), কে ফোর্স (খালেদ মোশাররফ), এস ফোর্স (শফিউল্লাহ)। তখন তাঁদের সেক্টরের দায়িত্ব পান দ্বিতীয় কমান্ডাররা।
নিজেকে যাচাই করুন
তথ্যের উৎস
- The Daily Star: Sectors of the Liberation War
- শিক্ষক বাতায়ন: মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর ও সেক্টর কমান্ডার
- এ এম এ মুহিত, Bangladesh: Emergence of a Nation
- Wikipedia: List of sectors in the Bangladesh Liberation War
ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধ: এই ভাগের সব পাঠ
- প্রাচীন বাংলার জনপদ: মানচিত্রে পাঁচ দিকের ভ্রমণ
- সুলতানি ও মুঘল আমল: পাঁচশো বছরের পাঁচ মোড়
- ব্রিটিশ আমল: ছয় শব্দে পলাশী থেকে বঙ্গভঙ্গ রদ
- পাকিস্তান আমল: ১৯৪৭ থেকে ১৯৭০, সাল ধরে
- ভাষা আন্দোলন: পাঁচ ধাপের সিঁড়িতে সব তারিখ
- যুক্তফ্রন্ট ১৯৫৪: চার দল, তিন নেতা, একুশ দফা
- ছয় দফা: একটা বাড়ি, ছয়টা প্রশ্ন
- ১৯৬৯ গণ-অভ্যুত্থান: তিন মাস, তিন শব্দ
- ১৯৭০ সালের নির্বাচন: “দুই কম” প্যাটার্নে সব আসন
- মুজিবনগর সরকার: দশে গঠন, সতেরোয় শপথ
- মুক্তিযুদ্ধের ১১টি সেক্টর: ম্যাপ, ছড়া আর পরীক্ষার ফাঁদ (এখন পড়ছেন)
- বীরত্বসূচক খেতাব: সাত বীরশ্রেষ্ঠ আর ৩-২-১-১ কৌশল
- জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪: কোটা আন্দোলন থেকে নতুন সংসদ