প্রাচীন বাংলার জনপদ: মানচিত্রে পাঁচ দিকের ভ্রমণ

এই পাঠের তথ্য উৎস মিলিয়ে লেখা ও প্রথমবার যাচাই করা হয়েছে; কয়েক দিন পর দ্বিতীয়বার যাচাই চলছে। কোথাও ভুল চোখে পড়লে নিচের “ভুল জানান” বাক্সে লিখুন।

প্রাচীন বাংলা কোনো একক রাষ্ট্র ছিল না, ছিল অনেকগুলো আলাদা অঞ্চল, যাদের বলা হয় জনপদ। বিসিএসে প্রশ্ন আসে প্রায় সবসময় এক ধরনের: “বর্তমান অমুক জেলা কোন জনপদে ছিল?” আজ সেটার উত্তর দিতে একটা মানচিত্র-ভ্রমণ করব।

গল্প: মানচিত্রে পাঁচ দিকের ভ্রমণ

বাংলাদেশের মানচিত্রটা মনে করুন, আর পাঁচটা দিকে পাঁচটা প্রধান জনপদ বসান:

দিকজনপদবর্তমান এলাকা (প্রধান)
উত্তরপুণ্ড্রবগুড়া, রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুরের অংশ
মাঝখানবঙ্গঢাকা, ফরিদপুর, বিক্রমপুর
পূর্বসমতটবৃহত্তর কুমিল্লা ও নোয়াখালী
দক্ষিণ-পূর্ব কোণহরিকেলচট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম, সিলেট, ত্রিপুরা
দক্ষিণচন্দ্রদ্বীপবরিশাল ও আশপাশ

মনে রাখার লাইন:
পুণ্ড্রে বগুড়া, বঙ্গে ঢাকা,
সমতটে কুমিল্লা, হরিকেলে চট্টগ্রাম,
চন্দ্রদ্বীপে বরিশাল।

বাকি জনপদগুলো

জনপদবর্তমান এলাকা
বরেন্দ্ররাজশাহী বিভাগের উত্তর-পশ্চিমাংশ, পাবনা, রংপুর ও দিনাজপুরের কিছু অংশ
গৌড়মালদহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, বর্ধমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
রাঢ়পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণাঞ্চল: বর্ধমান, বীরভূম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, মেদিনীপুর
তাম্রলিপ্তমেদিনীপুর (তমলুক)
সপ্তগাঁওখুলনা ও সমুদ্রতীরবর্তী অঞ্চল
বিক্রমপুরমুন্সীগঞ্জ ও আশপাশ

খেয়াল করুন, গৌড়, রাঢ় আর তাম্রলিপ্তের বেশিরভাগ এলাকা এখন পশ্চিমবঙ্গে। শুধু গৌড়ের চাঁপাইনবাবগঞ্জ অংশ বাংলাদেশে।

দুটো জরুরি তথ্য

  • পুণ্ড্রের রাজধানী পুণ্ড্রনগর, যা এখন বগুড়ার মহাস্থানগড়। খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয়-চতুর্থ শতকের নিদর্শন এখানে পাওয়া গেছে, আর বাংলাদেশের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর একে দেশের প্রাচীনতম নগরস্থান বলে।
  • সপ্তম শতকে গৌড়ের রাজা শশাঙ্ক, রাজধানী কর্ণসুবর্ণ (বর্তমান মুর্শিদাবাদ জেলায়)।

পরীক্ষার ফাঁদ

  • পুণ্ড্র বনাম বরেন্দ্র: দুটোই উত্তরবঙ্গে, এলাকা অনেকটা মিলে যায়। পুণ্ড্রে বগুড়া (মহাস্থানগড়) মূল চিহ্ন।
  • সিলেট কোন জনপদে? হরিকেল, সমতট নয়।
  • বরিশাল কোন জনপদে? চন্দ্রদ্বীপ। (বঙ্গের তালিকায় বাকলা বা বরিশালের নামও আসে, তবে প্রশ্নে চন্দ্রদ্বীপ থাকলে সেটাই বেছে নিন।)
  • শশাঙ্কের রাজধানী কর্ণসুবর্ণ, গৌড় নগরী নয়।

নিজেকে যাচাই করুন

তথ্যের উৎস