১৯৭০ সালের নির্বাচন: “দুই কম” প্যাটার্নে সব আসন

এই পাঠের তথ্য উৎস মিলিয়ে লেখা ও প্রথমবার যাচাই করা হয়েছে; কয়েক দিন পর দ্বিতীয়বার যাচাই চলছে। কোথাও ভুল চোখে পড়লে নিচের “ভুল জানান” বাক্সে লিখুন।

১৯৭০ সালের নির্বাচন থেকে প্রশ্ন আসে প্রায় সবসময় সংখ্যা নিয়ে: কত আসন, কতটা জিতল। সংখ্যাগুলো কাছাকাছি বলে সবাই গুলিয়ে ফেলে। আজ একটা সহজ প্যাটার্ন ধরিয়ে দেব।

পটভূমি

১৯৬৯ সালে ক্ষমতা নেওয়ার পর জেনারেল ইয়াহিয়া খান ৩০ মার্চ ১৯৭০ আইনগত কাঠামো আদেশ (LFO) জারি করেন, যেখানে নির্বাচনের নিয়ম আর জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন ভাগ ঠিক হয়। অক্টোবরে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু আগস্টের বন্যার কারণে পিছিয়ে যায়।

দুই নির্বাচন, দুই তারিখ

৭ ডিসেম্বর ১৯৭০: জাতীয় পরিষদ
১৭ ডিসেম্বর ১৯৭০: প্রাদেশিক পরিষদ

মনে রাখুন: “সাত আর সতেরো”, ঠিক দশ দিনের ব্যবধান।

জাতীয় পরিষদ: “দুই কম” প্যাটার্ন

পুরো পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে আসন ছিল ৩১৩টি: ৩০০টি সাধারণ আর ১৩টি সংরক্ষিত নারী আসন। এর মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানের ভাগে ১৬২টি সাধারণ আর ৭টি নারী আসন, মোট ১৬৯টি।

আওয়ামী লীগ জিতল ১৬২টির মধ্যে ১৬০টি, আর নারী আসনসহ ১৬৯টির মধ্যে ১৬৭টি। দুই হিসাবেই মাত্র দুটো কম।

হিসাবপূর্ব পাকিস্তানের আসনআওয়ামী লীগ পেল
শুধু সাধারণ আসন১৬২১৬০
নারী আসনসহ১৬৯১৬৭

পশ্চিম পাকিস্তানের ১৩৮টি সাধারণ আসনের মধ্যে জুলফিকার আলী ভুট্টোর পিপলস পার্টি (পিপিপি) পায় ৮১টি। অর্থাৎ ৩১৩ আসনের পরিষদে ১৬৭ আসন পেয়ে আওয়ামী লীগ একাই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় (অর্ধেক হলো ১৫৬.৫)।

প্রাদেশিক পরিষদ

পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের ৩০০টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ পায় ২৮৮টি।

তারপর কী হলো

নির্বাচনে জিতলেও সামরিক সরকার আওয়ামী লীগের হাতে ক্ষমতা দিতে রাজি হয়নি। এর ফলে শুরু হয় অসহযোগ আন্দোলন, আর ২৫ মার্চ ১৯৭১-এর সামরিক অভিযানের পর মুক্তিযুদ্ধ।

পরীক্ষার ফাঁদ

  • ১৬০ বনাম ১৬৭: প্রশ্নে “সাধারণ আসন” থাকলে ১৬০, “নারী আসনসহ” বা “মোট” থাকলে ১৬৭।
  • ৩০০ বনাম ৩১৩: জাতীয় পরিষদে সাধারণ আসন ৩০০, নারী আসনসহ ৩১৩। আবার প্রাদেশিক পরিষদেও ৩০০ আসনের কথা আসে, তাই প্রশ্নে কোন পরিষদ বলা আছে দেখুন।
  • ৭ বনাম ১৭ ডিসেম্বর: জাতীয় আগে, প্রাদেশিক পরে।
  • LFO জারি করেন ইয়াহিয়া খান, আইয়ুব খান নন।

নিজেকে যাচাই করুন

তথ্যের উৎস