গিয়ার, লিভার ও কপিকল: পাশের জন উল্টো ঘোরে

এই পাঠের তথ্য উৎস মিলিয়ে লেখা ও প্রথমবার যাচাই করা হয়েছে; কয়েক দিন পর দ্বিতীয়বার যাচাই চলছে। কোথাও ভুল চোখে পড়লে নিচের “ভুল জানান” বাক্সে লিখুন।

সাইকেলের প্যাডেল, কূপের বালতি তোলার কপিকল, ঢেঁকি: আমাদের চারপাশে সরল যন্ত্র ছড়িয়ে আছে। মানসিক দক্ষতার যান্ত্রিক প্রশ্নে এদের তিনটা নিয়ম জানলেই চলে।

গিয়ার: পাশের জন উল্টো ঘোরে

  • দুটো গিয়ার দাঁতে দাঁত মিলিয়ে থাকলে উল্টো দিকে ঘোরে।
  • এক সারিতে কয়েকটা গিয়ার থাকলে: প্রথমটা ঘড়ির কাঁটার দিকে ঘুরলে বিজোড় নম্বরগুলো (১, ৩, ৫…) ঘড়ির কাঁটার দিকে, জোড় নম্বরগুলো (২, ৪…) উল্টো দিকে।
  • দাঁত × গতি = সমান: ২০ দাঁতের গিয়ার মিনিটে ৬০ বার ঘুরলে, তার সাথে জোড়া ৪০ দাঁতের গিয়ার ঘুরবে ২০ × ৬০ ÷ ৪০ = ৩০ বার। বড় গিয়ার ধীরে ঘোরে।

কৌশল: “পাশের জন উল্টো, বড় জন ধীর।”

লিভার: দূরত্বই শক্তি

লিভারের নিয়ম: বল × বলবাহুর দৈর্ঘ্য = ভার × ভারবাহুর দৈর্ঘ্য। ৬০০ নিউটন ভার যদি আলম্ব (fulcrum) থেকে ০.৫ মিটার দূরে থাকে, আর আপনি ২ মিটার দূরে চাপ দেন, লাগবে ৬০০ × ০.৫ ÷ ২ = ১৫০ নিউটন। তাই লম্বা রড দিয়ে ভারী পাথর তোলা সহজ।

কপিকল (পুলি)

  • একটা স্থির কপিকল শুধু টানার দিক বদলায়; ভার হালকা করে না (যান্ত্রিক সুবিধা ১)।
  • একটা চলমান কপিকল ভারকে দুই দড়িতে ভাগ করে; অর্ধেক বল লাগে (যান্ত্রিক সুবিধা ২)।
  • সাধারণ নিয়ম: যতগুলো দড়ি ভারকে ধরে রাখে, প্রয়োজনীয় বল প্রায় ততগুণ কমে।

পরীক্ষার ফাঁদ

  • পাশাপাশি গিয়ার একই দিকে ঘোরে ভাবা। দাঁতে দাঁত মেলানো গিয়ার উল্টো দিকে ঘোরে।
  • বড় গিয়ার দ্রুত ঘোরে ভাবা। দাঁত বেশি মানে গতি কম।
  • স্থির কপিকল বল কমায় ভাবা। এটা শুধু দিক বদলায়।

নিজেকে যাচাই করুন