এই পাঠের তথ্য উৎস মিলিয়ে লেখা ও প্রথমবার যাচাই করা হয়েছে; কয়েক দিন পর দ্বিতীয়বার যাচাই চলছে। কোথাও ভুল চোখে পড়লে নিচের “ভুল জানান” বাক্সে লিখুন।
১৬৭৬ সাল। ওলন্দাজ ব্যবসায়ী অ্যান্টনি ভ্যান লিউয়েনহুক নিজের বানানো অণুবীক্ষণ যন্ত্রে এক ফোঁটা হ্রদের পানি দেখছিলেন। দেখলেন, অসংখ্য ক্ষুদ্র প্রাণী সাঁতরে বেড়াচ্ছে। তিনি এদের নাম দিলেন animalcules (ক্ষুদ্র প্রাণী)। এভাবেই মানুষ প্রথম চিনল অণুজীব।
অণুজীব কী
যেসব জীব এত ছোট যে খালি চোখে স্পষ্ট দেখা যায় না, অণুবীক্ষণ যন্ত্র লাগে, তারাই অণুজীব। এদের নিয়ে বিজ্ঞানের যে শাখা, তার নাম অণুজীববিজ্ঞান (Microbiology)।
প্রধান দল
| দল | বৈশিষ্ট্য | উদাহরণ/রোগ |
|---|---|---|
| ব্যাকটেরিয়া | এককোষী; সুগঠিত নিউক্লিয়াস নেই | কলেরা, যক্ষ্মা, টাইফয়েড; দই তৈরিতে উপকারী ব্যাকটেরিয়া |
| ভাইরাস | কোষ নেই; শুধু জীবন্ত কোষের ভেতরে বংশবৃদ্ধি করে | ডেঙ্গু, হাম, কোভিড-১৯, পোলিও |
| ছত্রাক (Fungi) | ইস্ট ও মোল্ড; সালোকসংশ্লেষণ করে না | পাউরুটি ফোলাতে ইস্ট; দাদ |
| প্রোটোজোয়া | এককোষী, প্রাণীর মতো চলাফেরা | ম্যালেরিয়া (প্লাজমোডিয়াম), আমাশয় (অ্যামিবা) |
| শৈবাল (Algae) | সালোকসংশ্লেষণ করে | পুকুরের সবুজ স্তর |
কৌশল: “ব্যা-ভা-ছ-প্রো-শৈ”: ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক, প্রোটোজোয়া, শৈবাল। আর মনে রাখুন: ম্যালেরিয়া ভাইরাস নয়, প্রোটোজোয়া; ডেঙ্গু ভাইরাস।
ইতিহাসের মাইলফলক
| বিজ্ঞানী | অবদান |
|---|---|
| রবার্ট হুক (১৬৬৫) | অণুবীক্ষণে কর্কের কোষ দেখেন |
| লিউয়েনহুক (১৬৭৬) | প্রথম অণুজীব পর্যবেক্ষণ ও বর্ণনা |
| লুই পাস্তুর | স্বতঃস্ফূর্ত জীবোৎপত্তির ধারণা ভুল প্রমাণ (রাজহাঁস-গলা ফ্লাস্ক), পাস্তুরায়ন, জলাতঙ্কের টিকা |
| রবার্ট কখ | অ্যানথ্রাক্সের জীবাণু শনাক্ত; কখের স্বীকার্য |
| আলেকজান্ডার ফ্লেমিং (১৯২৮) | পেনিসিলিন আবিষ্কার |
পরীক্ষার ফাঁদ
- ভাইরাসকে এককোষী জীব ভাবা। ভাইরাসের কোষই নেই।
- ম্যালেরিয়ার জীবাণুকে ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া ভাবা। এটা প্রোটোজোয়া (প্লাজমোডিয়াম)।
- অণুবীক্ষণ যন্ত্রে প্রথম অণুজীব দেখেছেন রবার্ট হুক ভাবা। হুক দেখেছিলেন কর্কের কোষ; অণুজীব প্রথম বর্ণনা করেন লিউয়েনহুক।
- অ্যান্টিবায়োটিক ভাইরাসে কাজ করে ভাবা। পেনিসিলিনের মতো অ্যান্টিবায়োটিক ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে।