এই পাঠের তথ্য উৎস মিলিয়ে লেখা ও প্রথমবার যাচাই করা হয়েছে; কয়েক দিন পর দ্বিতীয়বার যাচাই চলছে। কোথাও ভুল চোখে পড়লে নিচের “ভুল জানান” বাক্সে লিখুন।
অভিধানে “বই” একটা শব্দ। কিন্তু “বইটি ভালো” বাক্যে বসার পর “বইটি” হয়ে গেল একটা পদ। সহজ কথায়, বাক্যে ঢুকে বিভক্তি নিয়ে যে শব্দ কাজ করে, সেটাই পদ।
পদ কয় প্রকার
পদ প্রধানত দুই ভাগে বিভক্ত: নামপদ আর ক্রিয়াপদ। নামপদ চার রকম: বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম ও অব্যয়। সব মিলিয়ে পদ ৫ প্রকার।
| পদ | কী বোঝায় | উদাহরণ |
|---|---|---|
| বিশেষ্য | কোনো কিছুর নাম | নজরুল, ঢাকা, নদী, জনতা, ভোজন, মধুরতা |
| বিশেষণ | বিশেষ্য, সর্বনাম বা ক্রিয়ার দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ | নীল আকাশ, তাজা মাছ, চলন্ত গাড়ি, করুণাময় তুমি |
| সর্বনাম | বিশেষ্যের বদলে বসে | আমি, তুমি, সে, এটা, কে |
| অব্যয় | লিঙ্গ, বচন, বিভক্তিতে রূপ বদলায় না | এবং, ও, কিন্তু, অথবা, হায় |
| ক্রিয়া | কাজ করা বা হওয়া বোঝায় | পড়ে, খেলছে, যাবে |
কৌশল: “বি-বি-স-অ-ক্রি”: বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, অব্যয়, ক্রিয়া। প্রথম চারটা “নাম”, শেষেরটা “কাজ”।
বিশেষ্যের ছয় ভাগ
| ভাগ | উদাহরণ |
|---|---|
| নামবাচক (সংজ্ঞাবাচক) | নজরুল, ঢাকা, মেঘনা, গীতাঞ্জলি |
| জাতিবাচক | মানুষ, গরু, পাখি, নদী |
| বস্তুবাচক (দ্রব্যবাচক) | বই, খাতা, চাল, চিনি |
| সমষ্টিবাচক | সভা, জনতা, দল, ঝাঁক |
| ভাববাচক (ক্রিয়াবাচক) | গমন, দর্শন, ভোজন, শয়ন |
| গুণবাচক | মধুরতা, তারুণ্য, সৌরভ, স্বাস্থ্য |
অন্য পদের ভেতরের ভাগ (নামগুলো চিনে রাখুন)
- সর্বনাম: ব্যক্তিবাচক, আত্মবাচক, নির্দেশক, অনির্দেশক, প্রশ্নবাচক, সাপেক্ষ।
- অব্যয়: সংযোজক, বিয়োজক, সংকোচক, হেতুবাচক, উপমাবাচক, অনন্বয়ী, পদান্বয়ী।
- ক্রিয়া: সমাপিকা, অসমাপিকা, সকর্মক, অকর্মক, যৌগিক, মিশ্র।
পরীক্ষার ফাঁদ
- “ভোজন”-কে ক্রিয়া ভাবা। এটা কাজের নাম, তাই ভাববাচক বিশেষ্য।
- “মধুরতা” আর “মধুর” গুলিয়ে ফেলা। “মধুর” বিশেষণ, “মধুরতা” গুণবাচক বিশেষ্য।
- “জনতা”-কে জাতিবাচক ভাবা। এটা সমষ্টিবাচক।
- শব্দ আর পদকে একই ভাবা। বাক্যে ব্যবহৃত হলে তবেই পদ।