রক্ত ও হৃৎপিণ্ড: রক্ত নামের শহর

এই পাঠের তথ্য উৎস মিলিয়ে লেখা ও প্রথমবার যাচাই করা হয়েছে; কয়েক দিন পর দ্বিতীয়বার যাচাই চলছে। কোথাও ভুল চোখে পড়লে নিচের “ভুল জানান” বাক্সে লিখুন।

মানবদেহ থেকে বিসিএসে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন আসে রক্ত আর হৃৎপিণ্ড নিয়ে। প্রশ্নগুলো ছোট ছোট তথ্যের, তাই আজ পুরো ব্যবস্থাটাকে একটা শহরের গল্পে সাজাব, যাতে প্রতিটা তথ্যের একটা জায়গা থাকে।

গল্প: রক্ত নামের শহর

একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীরে প্রায় ৫ লিটার রক্ত থাকে, যা শরীরের ওজনের প্রায় ৭ শতাংশ। এই শহরে চার দল বাসিন্দা:

বাসিন্দাশহরে কাজজরুরি তথ্য
প্লাজমারাস্তা আর নদী, সবাইকে বয়ে নেয়রক্তের প্রায় ৫৫%; প্লাজমার প্রায় ৯০% পানি
লোহিত রক্তকণিকাডেলিভারি কর্মী, অক্সিজেন পৌঁছায়আয়ু প্রায় ১২০ দিন
শ্বেত রক্তকণিকাপুলিশ, জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়েদেহের প্রধান প্রতিরক্ষা
অণুচক্রিকামেরামত দল, কাটা জায়গায় রক্ত জমাট বাঁধায়রক্তক্ষরণ বন্ধ করে

এই সব কণিকার কারখানা হলো অস্থিমজ্জা (হাড়ের ভেতরের নরম অংশ)।

রক্তের গ্রুপ

১৯০১ সালে কার্ল ল্যান্ডস্টাইনার মানুষের রক্তের প্রধান চারটি গ্রুপ আবিষ্কার করেন: A, B, AB, O। প্রতিটা আবার Rh পজিটিভ বা নেগেটিভ, তাই মোট আটটা প্রধান ধরন।

O নেগেটিভ সবাইকে দেয়, AB সবার কাছ থেকে নেয়।
O নেগেটিভ = সর্বজনীন দাতা; AB = সর্বজনীন গ্রহীতা।

হৃৎপিণ্ড: শহরের পাম্প হাউস

হৃৎপিণ্ডে চারটি প্রকোষ্ঠ: ওপরে দুটো অলিন্দ (রক্ত গ্রহণ করে), নিচে দুটো নিলয় (রক্ত পাম্প করে বের করে)। চারটা কপাটিকা রক্তকে উল্টো দিকে যেতে দেয় না।

ডান দিক নোংরা, বাঁ দিক তাজা।
ডান দিকে অক্সিজেনবিহীন রক্ত, বাঁ দিকে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত।

  • ডান নিলয় অক্সিজেনবিহীন রক্ত পাঠায় ফুসফুসীয় ধমনী দিয়ে ফুসফুসে।
  • ফুসফুস থেকে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত ফুসফুসীয় শিরা দিয়ে বাঁ অলিন্দে আসে।
  • বাঁ নিলয় সেই তাজা রক্ত মহাধমনী (অ্যাওর্টা) দিয়ে সারা শরীরে পাঠায়।
  • হৃৎস্পন্দনের ছন্দ ঠিক করে সাইনো-অ্যাট্রিয়াল নোড, যাকে বলে হৃৎপিণ্ডের পেসমেকার।

বিশ্রামরত প্রাপ্তবয়স্কের হৃৎস্পন্দন সাধারণত মিনিটে ৬০ থেকে ১০০ বার।

পরীক্ষার ফাঁদ

  • ধমনী মানেই তাজা রক্ত নয়। সাধারণত ধমনী তাজা রক্ত আর শিরা অক্সিজেনবিহীন রক্ত বয়, কিন্তু প্রাপ্তবয়স্কের দেহে ফুসফুসীয় ধমনী আর ফুসফুসীয় শিরা এর উল্টো। প্রশ্নকর্তাদের প্রিয় প্রশ্ন।
  • দাতা বনাম গ্রহীতা উল্টে ফেলা। O দেয়, AB নেয়।
  • লোহিত কণিকার আয়ু ১২০ দিন, মাস নয়।
  • রক্ত জমাট বাঁধায় অণুচক্রিকা, শ্বেত কণিকা নয়।

নিজেকে যাচাই করুন

তথ্যের উৎস