শব্দ: বজ্রের গর্জন কেন পরে আসে

এই পাঠের তথ্য উৎস মিলিয়ে লেখা ও প্রথমবার যাচাই করা হয়েছে; কয়েক দিন পর দ্বিতীয়বার যাচাই চলছে। কোথাও ভুল চোখে পড়লে নিচের “ভুল জানান” বাক্সে লিখুন।

বজ্রপাতের আলো আগে দেখি, গর্জন পরে শুনি। কারণ আলো ছোটে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩ লাখ কিলোমিটার, আর শব্দ বাতাসে মাত্র প্রায় ৩৪৩ মিটার। শব্দ হলো কম্পনের ঢেউ, তাই চলতে তার একটা মাধ্যম লাগে।

শব্দের পাঁচ মূল কথা

  • শব্দ চলতে মাধ্যম লাগে; শূন্যস্থানে (vacuum) শব্দ চলে না। তাই মহাকাশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় না।
  • শব্দের বেগ কঠিনে সবচেয়ে বেশি, তারপর তরলে, তারপর বায়বীয় পদার্থে।
  • বাতাসে শব্দের বেগ প্রায় ৩৪৩ মি/সে (প্রায় ২০°C তাপমাত্রায়); তাপমাত্রা বাড়লে বেগ বাড়ে।
  • মানুষ শুনতে পায় ২০ হার্জ থেকে ২০,০০০ হার্জ কম্পাঙ্কের শব্দ।
  • ২০ হার্জের কম: শব্দেতর (infrasonic); ২০,০০০ হার্জের বেশি: শব্দোত্তর (ultrasonic)।

বিভিন্ন মাধ্যমে শব্দের বেগ (প্রায়)

মাধ্যমবেগ
বাতাস৩৪৩ মি/সে
পানি১,৫০০ মি/সে
ইস্পাত৫,১০০ মি/সে

কৌশল: “কঠিন দৌড়ায়, তরল হাঁটে, বাতাস হামাগুড়ি দেয়।”

প্রতিধ্বনি

দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে ফিরে আসা শব্দই প্রতিধ্বনি। আমাদের কানে কোনো শব্দের রেশ থাকে প্রায় ০.১ সেকেন্ড। তার আগে প্রতিধ্বনি ফিরলে মূল শব্দের সাথে মিশে যায়, আলাদা শোনা যায় না।

হিসাব: ০.১ সেকেন্ডে শব্দ যায় ৩৪৪ × ০.১ = ৩৪.৪ মিটার। এই পথ যাওয়া-আসা মিলিয়ে, তাই দেয়াল থাকতে হবে অন্তত ৩৪.৪ ÷ ২ = প্রায় ১৭.২ মিটার দূরে।

শব্দোত্তর তরঙ্গের ব্যবহার

  • SONAR (Sound Navigation and Ranging): সাগরের গভীরতা মাপা, ডুবোজাহাজ খোঁজা।
  • চিকিৎসায় আল্ট্রাসনোগ্রাফি।
  • বাদুড় শব্দোত্তর তরঙ্গের প্রতিধ্বনি শুনে অন্ধকারে পথ চলে ও শিকার খোঁজে।

পরীক্ষার ফাঁদ

  • শব্দ বাতাসে সবচেয়ে দ্রুত ভাবা। সবচেয়ে ধীর বাতাসে, দ্রুত কঠিনে।
  • প্রতিধ্বনির দূরত্বে ২ দিয়ে ভাগ না করা। শব্দ যায় আর ফেরে।
  • শব্দেতর আর শব্দোত্তর উল্টে ফেলা: “উত্তর” মানে ওপরে, ২০,০০০-এর বেশি।
  • শূন্যস্থানে শব্দ চলে ভাবা।

নিজেকে যাচাই করুন