সন্ধি: দুই ধ্বনির হাত ধরা

এই পাঠের তথ্য উৎস মিলিয়ে লেখা ও প্রথমবার যাচাই করা হয়েছে; কয়েক দিন পর দ্বিতীয়বার যাচাই চলছে। কোথাও ভুল চোখে পড়লে নিচের “ভুল জানান” বাক্সে লিখুন।

দুই বন্ধু হাত ধরলে মাঝখানের দুই হাত মিলে এক হয়ে যায়। শব্দেরও তেমন হয়: “বিদ্যা” আর “আলয়” পাশাপাশি বসলে মাঝের আ আর আ মিলে হয় বিদ্যালয়। পাশাপাশি দুটি ধ্বনির এই মিলনই সন্ধি।

সন্ধি তিন রকম

ধরনকীসের মিলনউদাহরণ
স্বরসন্ধিস্বর + স্বরহিম + আলয় = হিমালয়
ব্যঞ্জনসন্ধিব্যঞ্জন + স্বর, স্বর + ব্যঞ্জন, বা ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জনসৎ + জন = সজ্জন
বিসর্গসন্ধিবিসর্গ (ঃ) + স্বর বা ব্যঞ্জনমনঃ + যোগ = মনোযোগ

স্বরসন্ধি: পাঁচটা ছক মনে রাখলেই হয়

মিলনফলউদাহরণ
অ/আ + অ/আআবিদ্যা + আলয় = বিদ্যালয়; হিম + অচল = হিমাচল
ই/ঈ + ই/ঈঈরবি + ইন্দ্র = রবীন্দ্র; সতী + ঈশ = সতীশ
অ/আ + ই/ঈএনর + ইন্দ্র = নরেন্দ্র; মহা + ঈশ = মহেশ
অ/আ + উ/ঊওসূর্য + উদয় = সূর্যোদয়
অ/আ + ঋঅর্ (রেফ)দেব + ঋষি = দেবর্ষি; মহা + ঋষি = মহর্ষি
অ/আ + এ/ঐঐজন + এক = জনৈক
অ/আ + ও/ঔঔমহা + ঔষধ = মহৌষধ
ই/ঈ + অন্য স্বরয-ফলাঅতি + অন্ত = অত্যন্ত; ইতি + আদি = ইত্যাদি
উ/ঊ + অন্য স্বরব-ফলাসু + আগত = স্বাগত; অনু + এষণ = অন্বেষণ
এ + স্বরঅয়্নে + অন = নয়ন
ও + স্বরঅব্পো + অন = পবন

মনে রাখার কৌশল: “ই গেলে য, উ গেলে ব।” ই-এর পরে অন্য স্বর এলে ই হয়ে যায় য-ফলা (অত্যন্ত), উ-এর পরে এলে ব-ফলা (স্বাগত)।

ব্যঞ্জনসন্ধি: পাশের অক্ষরের মতো হয়ে যাওয়া

ব্যঞ্জনসন্ধিতে প্রায়ই প্রথম ব্যঞ্জনটা পরের ব্যঞ্জনের মতো হয়ে যায়, যেন পাশের বন্ধুর সাজ নেয়।

  • ত্/দ্ + চ → চ্চ: উৎ + চারণ = উচ্চারণ
  • ত্/দ্ + জ → জ্জ: সৎ + জন = সজ্জন
  • ত্/দ্ + ল → ল্ল: উৎ + লাস = উল্লাস
  • ত্/দ্ + হ → দ্ধ: উৎ + হার = উদ্ধার
  • ক্/ত্ + স্বর → গ্/দ্: দিক্ + অন্ত = দিগন্ত
  • স্বর + ছ → চ্ছ: পরি + ছদ = পরিচ্ছদ

বিসর্গসন্ধি

  • অ-এর পরের বিসর্গ + ঘোষ ব্যঞ্জন → ও: মনঃ + যোগ = মনোযোগ; মনঃ + রম = মনোরম
  • বিসর্গ + চ → শ্চ: নিঃ + চয় = নিশ্চয়
  • ই/উ-এর পরের বিসর্গ + ক → ষ্ক: আবিঃ + কার = আবিষ্কার; দুঃ + কর = দুষ্কর
  • অ-এর পরের বিসর্গ + ক → স্ক: নমঃ + কার = নমস্কার; পুরঃ + কার = পুরস্কার
  • র-এর আগে বিসর্গ লোপ, আগের স্বর দীর্ঘ: নিঃ + রোগ = নীরোগ
  • অন্য স্বর বা ঘোষ ব্যঞ্জনের আগে ই/উ-এর পরের বিসর্গ → র্: নিঃ + জন = নির্জন; দুঃ + নাম = দুর্নাম

নিপাতনে সিদ্ধ: নিয়ম না মানা শব্দ

কিছু শব্দ কোনো নিয়ম মানে না, কিন্তু বহুদিনের ব্যবহারে সেভাবেই শুদ্ধ। এগুলো মুখস্থ করতে হয়, আর পরীক্ষায় বারবার আসে।

সন্ধিরূপবিচ্ছেদ
গবাক্ষগো + অক্ষ
কুলটাকুল + অটা
একাদশএক + দশ
বৃহস্পতিবৃহৎ + পতি
পতঞ্জলিপতৎ + অঞ্জলি
মনীষামনস্ + ঈষা

পরীক্ষার ফাঁদ

  • স্বাগত = সু + আগত, আর স্বাগতম = সু + আগতম; দুটোতেই উ + আ = ব-ফলা + আ। “স্ব + আগত” লেখা ভুল।
  • বিদ্যালয় ভাঙতে গিয়ে “বিদ্যা + লয়” লেখা। সঠিক: বিদ্যা + আলয়।
  • নমস্কার আর আবিষ্কার গুলিয়ে ফেলা: আগে অ থাকলে স্ক, ই/উ থাকলে ষ্ক।
  • নিপাতনে সিদ্ধ শব্দে নিয়ম খোঁজা। গবাক্ষ (গো + অক্ষ) কোনো সাধারণ নিয়মে পড়ে না।

নিজেকে যাচাই করুন