সংবিধানের প্রস্তাবনা ও মূলনীতি: ৪ নভেম্বরের দলিল

এই পাঠের তথ্য উৎস মিলিয়ে লেখা ও প্রথমবার যাচাই করা হয়েছে; কয়েক দিন পর দ্বিতীয়বার যাচাই চলছে। কোথাও ভুল চোখে পড়লে নিচের “ভুল জানান” বাক্সে লিখুন।

১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর। গণপরিষদে গৃহীত হলো স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান, আর বিজয় দিবসে, ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২, তা কার্যকর হলো। হাতে লেখা মূল কপির পাতাগুলো লিখেছিলেন শিল্পী এ কে এম আবদুর রউফ। তাই ৪ নভেম্বর এখন “সংবিধান দিবস”।

সংবিধানের জন্মকথা

বিষয়তথ্য
গৃহীত৪ নভেম্বর ১৯৭২, গণপরিষদে
কার্যকর১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২
খসড়া কমিটি৩৪ সদস্যের; সভাপতি ড. কামাল হোসেন
হস্তলিপিশিল্পী এ কে এম আবদুর রউফ

প্রস্তাবনা

সংবিধানের শুরুর অংশকে বলে প্রস্তাবনা (Preamble)। এতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার, সাম্য ও ন্যায়বিচারের অঙ্গীকার আছে, আর বলা আছে চার মূলনীতির কথা।

রাষ্ট্র পরিচালনার চার মূলনীতি

  • জাতীয়তাবাদ
  • সমাজতন্ত্র
  • গণতন্ত্র
  • ধর্মনিরপেক্ষতা

এগুলো আছে সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে (রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি), অনুচ্ছেদ ৮-এ। জাতীয় প্রতীকের চারটি তারাও এই চার মূলনীতির প্রতীক। মনে রাখবেন: মূলনীতি আদালতে সরাসরি বলবৎযোগ্য নয়; তবে আইন ও নীতি তৈরিতে এগুলো পথ দেখায়। আর মৌলিক অধিকার (তৃতীয় ভাগ) আদালতে বলবৎযোগ্য।

মূলনীতির ওঠানামা

  • পঞ্চম সংশোধনী (১৯৭৯) সামরিক শাসনামলের পরিবর্তনগুলোকে বৈধতা দেয়; এ সময় মূলনীতিতে বদল আসে।
  • পঞ্চদশ সংশোধনী (২০১১) ধর্মনিরপেক্ষতা ফিরিয়ে আনে।
  • জুলাই সনদে মূলনীতি নিয়েও প্রস্তাব আছে; সংবিধান সংশোধন এখনো প্রক্রিয়াধীন।

কৌশল: “জা-স-গ-ধ” (জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা)। তারিখ: “৪ নভেম্বর গ্রহণ, ১৬ ডিসেম্বর চালু”।

আরও পড়ুন: মৌলিক অধিকার · সংবিধান সংশোধনী · জাতীয় প্রতীক

পরীক্ষার ফাঁদ

  • সংবিধান ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২-এ গৃহীত লেখা। গৃহীত ৪ নভেম্বর; কার্যকর ১৬ ডিসেম্বর।
  • মূলনীতি আদালতে বলবৎযোগ্য ভাবা। মূলনীতি বলবৎযোগ্য নয়; মৌলিক অধিকার বলবৎযোগ্য।
  • খসড়া কমিটির সদস্য ৩০ জন লেখা। সদস্য ৩৪ জন।

দ্রষ্টব্য: জুলাই সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন সম্পন্ন হলে এই পাঠ হালনাগাদ করা হবে।

নিজেকে যাচাই করুন

সংবিধান: এই ভাগের সব পাঠ২ / ৬
  1. সংবিধান প্রণয়ন: চার মাসের ক্যালেন্ডারে সব তারিখ
  2. সংবিধানের প্রস্তাবনা ও মূলনীতি: ৪ নভেম্বরের দলিল (এখন পড়ছেন)
  3. মৌলিক অধিকার: অনুচ্ছেদ ২৭ থেকে ৪৪
  4. সংবিধান সংশোধনী: প্রথম থেকে সপ্তদশ, তারপর জুলাই সনদ
  5. সংবিধানের তফসিল: ১৫৩ অনুচ্ছেদের পরের ৭ পাতা
  6. গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদ: বারবার আসা নম্বরগুলো
সংবিধান ভাগের পাতায় যান →