সংবিধান প্রণয়ন: চার মাসের ক্যালেন্ডারে সব তারিখ

এই পাঠের তথ্য উৎস মিলিয়ে লেখা ও প্রথমবার যাচাই করা হয়েছে; কয়েক দিন পর দ্বিতীয়বার যাচাই চলছে। কোথাও ভুল চোখে পড়লে নিচের “ভুল জানান” বাক্সে লিখুন।

প্রতি বছর ৪ নভেম্বর পালিত হয় সংবিধান দিবস, কারণ ১৯৭২ সালের এই দিনেই বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয়েছিল। বিসিএসে সংবিধান প্রণয়নের তারিখ, কমিটি আর সদস্যদের নিয়ে প্রশ্ন প্রায় নিশ্চিত। চলুন একটা ক্যালেন্ডার ধরে পুরো যাত্রাটা দেখি।

ক্যালেন্ডারে সংবিধানের যাত্রা

পুরো কাজটা ভাগ করুন চারটা পাতায়: এপ্রিল, অক্টোবর, নভেম্বর, ডিসেম্বর। এপ্রিলে কমিটি, অক্টোবরে বিল, নভেম্বরে গ্রহণ, ডিসেম্বরে কার্যকর।

এপ্রিল: কমিটি গঠন

১১ এপ্রিল ১৯৭২ গণপরিষদ ৩৪ সদস্যের সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠন করে। সভাপতি ছিলেন ড. কামাল হোসেন। কমিটির একমাত্র বিরোধী দলীয় সদস্য ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত আর একমাত্র নারী সদস্য বেগম রাজিয়া বানু।

অক্টোবর: বিল উত্থাপন

১২ অক্টোবর ১৯৭২ খসড়াটি সংবিধান বিল হিসেবে গণপরিষদে তোলা হয়। এরপর তিন দফা পাঠ ও আলোচনা চলে।

নভেম্বর: গ্রহণ

৪ নভেম্বর ১৯৭২ তৃতীয় পাঠ শেষে গণপরিষদ সংবিধান গ্রহণ করে। এই কারণেই ৪ নভেম্বর সংবিধান দিবস।

ডিসেম্বর: কার্যকর

১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২, স্বাধীনতার পর প্রথম বিজয় দিবসে সংবিধান কার্যকর হয়।

মনে রাখার লাইন: এগারোয় কমিটি, বারোয় বিল,
চারে গ্রহণ, ষোলোয় মিল।
(১১ এপ্রিল, ১২ অক্টোবর, ৪ নভেম্বর, ১৬ ডিসেম্বর)

আরও কিছু জরুরি তথ্য

  • সংবিধান সাজানোর (অঙ্গসজ্জা) দায়িত্বে ছিল শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন-এর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের কমিটি।
  • সংবিধানের বাংলা ও ইংরেজি দুটো পাঠ আছে। দুটোর মধ্যে অর্থে অমিল হলে বাংলা পাঠই প্রাধান্য পায়।

এক নজরে

তারিখঘটনা
১১ এপ্রিল ১৯৭২৩৪ সদস্যের প্রণয়ন কমিটি, সভাপতি ড. কামাল হোসেন
১২ অক্টোবর ১৯৭২গণপরিষদে সংবিধান বিল উত্থাপন
৪ নভেম্বর ১৯৭২সংবিধান গৃহীত (সংবিধান দিবস)
১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২সংবিধান কার্যকর

পরীক্ষার ফাঁদ

  • গৃহীত বনাম কার্যকর: গৃহীত ৪ নভেম্বর, কার্যকর ১৬ ডিসেম্বর। প্রশ্নের শব্দটা খেয়াল করুন।
  • “একমাত্র” প্রশ্ন: একমাত্র বিরোধী সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, একমাত্র নারী সদস্য রাজিয়া বানু। দুটো গুলিয়ে ফেলবেন না।
  • অমিল হলে কোনটা চলবে? বাংলা পাঠ।

সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে জরুরি কথা

১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সাথে জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে গণভোট হয়, যেখানে “হ্যাঁ” জয়ী হয়। এরপর সংবিধান সংস্কার বা সংশোধনের প্রক্রিয়া চলছে। তাই সংবিধানের অনুচ্ছেদ, সংশোধনীর সংখ্যা বা সংসদের কাঠামোর মতো বিষয় বদলাতে পারে। এই পাঠে শুধু ১৯৭২ সালের প্রণয়নের ইতিহাস আছে, যা বদলাবে না। সর্বশেষ পরিবর্তন আলাদা পাঠে হালনাগাদ রাখা হবে।

নিজেকে যাচাই করুন

তথ্যের উৎস