সমাস: অনেক শব্দ মিলে এক শব্দ

এই পাঠের তথ্য উৎস মিলিয়ে লেখা ও প্রথমবার যাচাই করা হয়েছে; কয়েক দিন পর দ্বিতীয়বার যাচাই চলছে। কোথাও ভুল চোখে পড়লে নিচের “ভুল জানান” বাক্সে লিখুন।

“সিংহ চিহ্নিত আসন” বলতে চারটা শব্দ লাগে, “সিংহাসন” বলতে একটা। কয়েকটা অর্থযুক্ত শব্দ মিলে একটা নতুন শব্দ তৈরির এই নিয়মই সমাস। সন্ধিতে মেলে ধ্বনি, সমাসে মেলে শব্দ।

সমাসের পাঁচ অংশ

অংশমানে“সিংহাসন”-এ
ব্যাসবাক্যযে বাক্যাংশ ভেঙে সমাস ব্যাখ্যা করা হয়সিংহ চিহ্নিত আসন
সমস্তপদতৈরি হওয়া নতুন শব্দসিংহাসন
সমস্যমান পদযে শব্দগুলো মিলে সমাস হয়সিংহ, আসন
পূর্বপদপ্রথম পদসিংহ
পরপদ (উত্তরপদ)শেষ পদআসন

কোন পদের অর্থ প্রধান: এক ছকেই চেনা

পূর্বপদ প্রধান?পরপদ প্রধান?সমাস
হ্যাঁহ্যাঁদ্বন্দ্ব
নাহ্যাঁকর্মধারয়, তৎপুরুষ, দ্বিগু
হ্যাঁনাঅব্যয়ীভাব
নানাবহুব্রীহি (তৃতীয় কাউকে বোঝায়)

কৌশল: “দুজনই প্রধান = দ্বন্দ্ব, কেউ না = বহুব্রীহি, আগেরটা = অব্যয়ীভাব, পরেরটা = বাকি তিন।”

ব্যাসবাক্যের সংকেত দেখে চেনা

সমাসব্যাসবাক্যে যা থাকেউদাহরণ
দ্বন্দ্বও, এবং, আরমা-বাপ = মা ও বাপ; হাট-বাজার = হাট ও বাজার
কর্মধারয়যে, যিনি, ন্যায়, রূপনীলপদ্ম = নীল যে পদ্ম; জীবনপ্রদীপ = জীবন রূপ প্রদীপ
তৎপুরুষকে, দ্বারা, জন্য, থেকে, র, এ (বিভক্তি)পুত্রলাভ = পুত্রকে লাভ; রান্নাঘর = রান্নার নিমিত্ত ঘর; রথারোহণ = রথে আরোহণ
বহুব্রীহিযার, যাতে, যাদেরমহাত্মা = মহান আত্মা যার; নীলকণ্ঠ = নীল কণ্ঠ যার
দ্বিগুসংখ্যা + সমাহারত্রিকাল = তিন কালের সমাহার; অষ্টধাতু = অষ্ট ধাতুর সমাহার
অব্যয়ীভাবপর্যন্ত, কাছে (পূর্বপদে অব্যয়)আমরণ = মরণ পর্যন্ত

কর্মধারয়ের চার ভাই

  • মধ্যপদলোপী: মাঝের পদ লোপ পায়। স্মৃতিসৌধ = স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ।
  • উপমান: তুষারশুভ্র = তুষারের ন্যায় শুভ্র।
  • উপমিত: পুরুষসিংহ = পুরুষ সিংহের ন্যায়।
  • রূপক: জীবনপ্রদীপ = জীবন রূপ প্রদীপ।

সমাস কয় প্রকার? সাবধান

প্রথাগত ব্যাকরণে সমাস ৬ প্রকার: দ্বন্দ্ব, কর্মধারয়, তৎপুরুষ, বহুব্রীহি, দ্বিগু ও অব্যয়ীভাব। তবে কিছু ব্যাকরণবিদ দ্বিগুকে কর্মধারয়ের ভেতরে ধরেন, তাই কোনো কোনো বইয়ে সংখ্যা ৪। নবম-দশম শ্রেণির নতুন ব্যাকরণ বইয়েও ৪ প্রকার বলা আছে বলে উল্লেখ পাওয়া যায়। প্রশ্নে কোন বইয়ের কথা বলা হচ্ছে, বিকল্প দেখে বুঝে নিন। “প্রধানত কয় প্রকার” প্রশ্নে প্রথাগত উত্তর ৬।

পরীক্ষার ফাঁদ

  • বহুব্রীহি আর উপপদ তৎপুরুষ দেখতে একই রকম। ব্যাসবাক্য দেখে চিনুন: “যার” থাকলে বহুব্রীহি।
  • একই শব্দ ভিন্ন ব্যাসবাক্যে ভিন্ন সমাস হতে পারে। যেমন “মন্দভাগ্য”: “মন্দ যে ভাগ্য” হলে কর্মধারয়, “মন্দ ভাগ্য যার” হলে বহুব্রীহি।
  • সন্ধি আর সমাস গুলিয়ে ফেলা: সন্ধিতে ধ্বনি মেলে, সমাসে শব্দ।

নিজেকে যাচাই করুন