এই পাঠের তথ্য উৎস মিলিয়ে লেখা ও প্রথমবার যাচাই করা হয়েছে; কয়েক দিন পর দ্বিতীয়বার যাচাই চলছে। কোথাও ভুল চোখে পড়লে নিচের “ভুল জানান” বাক্সে লিখুন।
১৭ শতক। বাংলার রাজদরবারে নয়, বাংলা কবিতার এক উজ্জ্বল অধ্যায় লেখা হচ্ছিল পাশের রাজ্য আরাকানে (আজকের মিয়ানমারের রাখাইন)। সেখানকার রাজসভার মুসলমান অমাত্যদের পৃষ্ঠপোষকতায় বাঙালি কবিরা লিখলেন দেবতার নয়, মানুষের প্রেমের কাহিনি।
দুই প্রধান কবি
| কবি | তথ্য | রচনা |
|---|---|---|
| দৌলত কাজী | জন্ম চট্টগ্রামের রাউজান (আনু. ১৬০০–১৬৩৮); আরাকানরাজ শ্রীসুধর্মার (থিরি থুধম্মা) সভাকবি | সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী: দুই-তৃতীয়াংশ লিখে মারা যান |
| আলাওল | আনু. ১৬০৭–১৬৮০; জন্ম ফরিদপুরে; পর্তুগিজ জলদস্যুর হাতে বন্দি হয়ে আরাকানে; প্রধানমন্ত্রী মাগন ঠাকুরের পৃষ্ঠপোষকতা | পদ্মাবতী (শ্রেষ্ঠ রচনা), সতীময়না-লোরচন্দ্রানীর বাকি অংশ (১৬৫৯), সপ্তপয়কর, সয়ফুলমুলক বদিউজ্জামাল, সিকান্দরনামা, তোহফা |
পদ্মাবতী
আলাওলের শ্রেষ্ঠ কীর্তি পদ্মাবতী, হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সীর পদ্মাবত অবলম্বনে লেখা। মাগন ঠাকুরের উৎসাহে রচিত।
কেন আলাদা
- মধ্যযুগের বেশির ভাগ সাহিত্য ধর্মকেন্দ্রিক; আরাকানের কবিরা লিখলেন মানবিক প্রেমকাহিনি (রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান)।
- ফারসি ও হিন্দি সাহিত্য থেকে অনুবাদ ও রূপান্তরে বাংলা সাহিত্যে নতুন স্বাদ এল।
কৌশল: “দৌলত শুরু করেন, আলাওল শেষ করেন” (সতীময়না)। আর “মাগনের উৎসাহে পদ্মার জন্ম” (মাগন ঠাকুর → পদ্মাবতী)।
আরও পড়ুন: মঙ্গলকাব্য · বৈষ্ণব পদাবলি
পরীক্ষার ফাঁদ
- সতীময়না-লোরচন্দ্রানী পুরোটা দৌলত কাজীর লেখা। শেষ করেন আলাওল (১৬৫৯)।
- পদ্মাবতী আলাওলের মৌলিক রচনা ভাবা। এটা জায়সীর পদ্মাবত অবলম্বনে।
- আরাকান রাজসভা বাংলার ভেতরে ছিল ভাবা। আরাকান আজকের মিয়ানমারের রাখাইন অঞ্চল।
- মাগন ঠাকুরকে কবি ভাবা। তিনি আরাকানের প্রধানমন্ত্রী, আলাওলের পৃষ্ঠপোষক।
নিজেকে যাচাই করুন
প্রাচীন ও মধ্যযুগের সাহিত্য: এই ভাগের সব পাঠ
- চর্যাপদ: নেপালের গ্রন্থাগারে হাজার বছরের গান
- অন্ধকার যুগ: ১২০১–১৩৫০-এর নীরবতা
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন: গোয়ালঘরে পাওয়া কাব্য
- অনুবাদ সাহিত্য: রামায়ণ-মহাভারত এল বাংলায়
- মঙ্গলকাব্য: বেহুলার ভেলা থেকে অন্নদামঙ্গল
- বৈষ্ণব পদাবলি: রাধা-কৃষ্ণের গান
- জীবনী সাহিত্য: দেবতা থেকে মানুষে
- আরাকান রাজসভা: দৌলত কাজী ও আলাওল (এখন পড়ছেন)
- পুঁথি সাহিত্য: বটতলার দোভাষী কাব্য
- লোকসাহিত্য ও গীতিকা: মহুয়ার দেশ