এই পাঠের তথ্য উৎস মিলিয়ে লেখা ও প্রথমবার যাচাই করা হয়েছে; কয়েক দিন পর দ্বিতীয়বার যাচাই চলছে। কোথাও ভুল চোখে পড়লে নিচের “ভুল জানান” বাক্সে লিখুন।
মধ্যযুগে সংস্কৃত জানতেন অল্প কিছু পণ্ডিত। সাধারণ মানুষ রাম, অর্জুন বা কৃষ্ণের গল্প শুনতে চাইলেও পড়তে পারতেন না। এই দেয়াল ভাঙলেন কয়েকজন কবি: সংস্কৃত মহাকাব্যকে তাঁরা বাংলা পয়ার ছন্দে নামিয়ে আনলেন ঘরে ঘরে। পাশাপাশি মুসলমান কবিরা ফারসি-আরবি কাহিনি আনলেন বাংলায়।
সংস্কৃত থেকে অনুবাদ
| কবি | গ্রন্থ | তথ্য |
|---|---|---|
| কৃত্তিবাস ওঝা (আনু. ১৩৮১–১৪৬১) | রামায়ণ | বাল্মীকির সংস্কৃত রামায়ণের প্রথম বাংলা অনুবাদক; পয়ার ছন্দে; ১৮০২–০৩ সালে শ্রীরামপুর মিশন প্রেসে ছাপা |
| মালাধর বসু | শ্রীকৃষ্ণবিজয় (১৪৭৩–১৪৮০) | ভাগবতের প্রথম ও একাদশ স্কন্ধের অনুবাদ; সুলতান হোসেন শাহ তাঁকে “গুণরাজ খান” উপাধি দেন |
| কাশীরাম দাস | মহাভারত | ১৮ পর্বের প্রথম চারটি (আদি, সভা, বন, বিরাট) নিজে লেখেন; বাকিটা আত্মীয়রা শেষ করেন, আনু. ১৬১০ |
ফারসি-আরবি কাহিনি থেকে
- শাহ মুহম্মদ সগীর (১৪–১৫ শতক): ইউসুফ-জুলেখা; সম্ভবত সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের সভাকবি; বাংলায় ফারসি-আরবি শব্দের ব্যবহার তিনিই প্রথম শুরু করেন বলে ধরা হয়।
- আলাওল: জায়সীর হিন্দি পদ্মাবত থেকে পদ্মাবতী, নিজামীর ফারসি থেকে সিকান্দরনামা ও সপ্তপয়কর।
কৌশল: “রামে কৃত্তি, কৃষ্ণে মালা, ভারতে কাশী” (রামায়ণ কৃত্তিবাস, শ্রীকৃষ্ণবিজয় মালাধর, মহাভারত কাশীরাম)। আর “গুণরাজ মালাধর”।
আরও পড়ুন: আরাকান রাজসভা · মঙ্গলকাব্য · পুঁথি সাহিত্য
পরীক্ষার ফাঁদ
- “গুণরাজ খান” কৃত্তিবাসের উপাধি লেখা। এটা মালাধর বসুর।
- মহাভারতের পুরো অনুবাদ কাশীরাম দাস নিজে করেছেন লেখা। তিনি প্রথম চার পর্ব লিখেছেন।
- ইউসুফ-জুলেখা আলাওলের লেখা। প্রথম ইউসুফ-জুলেখা শাহ মুহম্মদ সগীরের (পরে ফকির গরিবুল্লাহও লেখেন)।
নিজেকে যাচাই করুন
← আগের পাঠশ্রীকৃষ্ণকীর্তন: গোয়ালঘরে পাওয়া কাব্যপরের পাঠ →মঙ্গলকাব্য: বেহুলার ভেলা থেকে অন্নদামঙ্গল
প্রাচীন ও মধ্যযুগের সাহিত্য: এই ভাগের সব পাঠ
- চর্যাপদ: নেপালের গ্রন্থাগারে হাজার বছরের গান
- অন্ধকার যুগ: ১২০১–১৩৫০-এর নীরবতা
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন: গোয়ালঘরে পাওয়া কাব্য
- অনুবাদ সাহিত্য: রামায়ণ-মহাভারত এল বাংলায় (এখন পড়ছেন)
- মঙ্গলকাব্য: বেহুলার ভেলা থেকে অন্নদামঙ্গল
- বৈষ্ণব পদাবলি: রাধা-কৃষ্ণের গান
- জীবনী সাহিত্য: দেবতা থেকে মানুষে
- আরাকান রাজসভা: দৌলত কাজী ও আলাওল
- পুঁথি সাহিত্য: বটতলার দোভাষী কাব্য
- লোকসাহিত্য ও গীতিকা: মহুয়ার দেশ