চুম্বক ও বিদ্যুৎ: একই গল্পের দুই অধ্যায়

এই পাঠের তথ্য উৎস মিলিয়ে লেখা ও প্রথমবার যাচাই করা হয়েছে; কয়েক দিন পর দ্বিতীয়বার যাচাই চলছে। কোথাও ভুল চোখে পড়লে নিচের “ভুল জানান” বাক্সে লিখুন।

দুটো চুম্বক কাছে আনলে কখনো জড়িয়ে ধরে, কখনো ঠেলে সরিয়ে দেয়। আর তারের ভেতর দিয়ে বিদ্যুৎ গেলে তার নিজেই চুম্বক হয়ে যায়। বিদ্যুৎ আর চুম্বক আসলে একই গল্পের দুই অধ্যায়।

চুম্বকের মূল কথা

  • সমমেরু বিকর্ষণ করে, বিপরীত মেরু আকর্ষণ করে।
  • চুম্বক কেটে দুই টুকরা করলে প্রতিটা টুকরায় আবার উত্তর ও দক্ষিণ দুই মেরুই থাকে; একক মেরু পাওয়া যায় না।
  • পৃথিবী নিজেই একটা বিশাল চুম্বক। ভৌগোলিক উত্তর মেরুর কাছে আছে পৃথিবীর চৌম্বক দক্ষিণ মেরু; তাই কম্পাসের উত্তর-সন্ধানী প্রান্ত উত্তরে ঘোরে।
  • ১৮২০ সালে ওরস্টেড দেখান, বিদ্যুৎবাহী তারের চারপাশে চৌম্বকক্ষেত্র তৈরি হয়।

ওহমের সূত্র

V = I × R (ভোল্টেজ = প্রবাহ × রোধ), তাপমাত্রা স্থির থাকলে। একক: ভোল্টেজ ভোল্ট (V), প্রবাহ অ্যাম্পিয়ার (A), রোধ ওহম (Ω)।

উদাহরণ: ২২০ ভোল্ট সরবরাহে ৫৫ ওহম রোধের হিটারে প্রবাহ = ২২০ ÷ ৫৫ = ৪ অ্যাম্পিয়ার। ক্ষমতা P = V × I = ২২০ × ৪ = ৮৮০ ওয়াট।

রোধের সংযোগ

সংযোগমোট রোধবৈশিষ্ট্য
শ্রেণি (series)R = R₁ + R₂ + …সবগুলোতে প্রবাহ একই; ভোল্টেজ ভাগ হয়
সমান্তরাল (parallel)১/R = ১/R₁ + ১/R₂ + …সবগুলোতে ভোল্টেজ একই; প্রবাহ ভাগ হয়
  • শ্রেণিতে ২, ৩, ৫ ওহম: মোট ১০ ওহম।
  • সমান্তরালে ৬ আর ৩ ওহম: ১/R = ১/৬ + ১/৩ = ১/২, তাই ২ ওহম।

বাসার বাতি-পাখা সমান্তরালে লাগানো থাকে, তাই একটা নষ্ট হলেও অন্যগুলো চলে, আর সবগুলো পুরো ভোল্টেজ পায়।

বিদ্যুৎ বিলের একক

বিল হয় কিলোওয়াট-ঘণ্টা (kWh) বা “ইউনিট” হিসাবে। ১ kWh = ৩.৬ × ১০⁶ জুল। ১০০ ওয়াটের বাতি ১০ ঘণ্টা জ্বললে খরচ = ১০০ × ১০ ÷ ১০০০ = ১ ইউনিট।

জেনারেটর, মোটর, ট্রান্সফরমার

যন্ত্রকাজ
জেনারেটর (ডায়নামো)যান্ত্রিক শক্তি → বিদ্যুৎ শক্তি; তড়িৎচৌম্বক আবেশের (ফ্যারাডের সূত্র) ওপর ভিত্তি করে
মোটরবিদ্যুৎ শক্তি → যান্ত্রিক শক্তি
ট্রান্সফরমারএসি ভোল্টেজ বাড়ায় বা কমায়; V₂/V₁ = N₂/N₁ (প্যাঁচের অনুপাত)

কৌশল: “জেনারেটর জন্ম দেয় বিদ্যুৎ, মোটর মোটর চালায়।”

নিরাপত্তা

  • ফিউজ: নিম্ন গলনাঙ্কের তার; বেশি প্রবাহে গলে বর্তনী কেটে দেয়। এখন অনেক বাসায় MCB।
  • আর্থিং: যন্ত্রের ধাতব খোলস মাটির সাথে যুক্ত রাখে; আর্থ তার সবুজ বা সবুজ-হলুদ।
  • বাংলাদেশে সরবরাহের কম্পাঙ্ক ৫০ হার্জ; ভোল্টেজ সাধারণত ২২০ ভোল্ট বলা হয়, তবে কিছু আন্তর্জাতিক উৎসে ২৩০ ভোল্ট লেখা।

পরীক্ষার ফাঁদ

  • সমান্তরালে মোট রোধ যোগ করে ফেলা। সমান্তরালে মোট রোধ সবচেয়ে ছোট রোধের চেয়েও কম।
  • ভৌগোলিক উত্তর মেরুতে চৌম্বক উত্তর মেরু ভাবা। সেখানে চৌম্বক দক্ষিণ মেরু।
  • জেনারেটর আর মোটরের শক্তি রূপান্তর উল্টে ফেলা।
  • kWh-কে ক্ষমতার একক ভাবা। এটা শক্তির একক; ক্ষমতার একক ওয়াট।

নিজেকে যাচাই করুন

ভৌত বিজ্ঞান: এই ভাগের সব পাঠ৭ / ৯
  1. অণু ও পরমাণু: সিসের শেষ কণা
  2. এসিড, ক্ষার ও লবণ: pH স্কেল এক ছবিতে
  3. বল, গতি ও চাপ: ফুটবল থেকে নিউটন
  4. তাপ: চায়ের চামচ, চুলার পানি আর সূর্য
  5. শব্দ: বজ্রের গর্জন কেন পরে আসে
  6. আলো: আপনি ৮ মিনিট আগের সূর্য দেখছেন
  7. চুম্বক ও বিদ্যুৎ: একই গল্পের দুই অধ্যায় (এখন পড়ছেন)
  8. তেজস্ক্রিয়তা: ড্রয়ারের কালো প্লেট
  9. ইলেকট্রনিক্স: ভ্যাকুয়াম টিউব থেকে চিপ
ভৌত বিজ্ঞান ভাগের পাতায় যান →