পরিপাকতন্ত্র: এক টুকরা ভাতের যাত্রা

এই পাঠের তথ্য উৎস মিলিয়ে লেখা ও প্রথমবার যাচাই করা হয়েছে; কয়েক দিন পর দ্বিতীয়বার যাচাই চলছে। কোথাও ভুল চোখে পড়লে নিচের “ভুল জানান” বাক্সে লিখুন।

এক টুকরা ভাত মুখে দেওয়ার পর থেকে সেটা শরীরের কাজে লাগা পর্যন্ত লম্বা একটা যাত্রা। পথে কয়েকটা “স্টেশন”, প্রতিটায় আলাদা কাজ। এই যাত্রাপথই পরিপাকতন্ত্র।

স্টেশন ধরে যাত্রা

স্টেশনকী ঘটে
মুখলালার অ্যামাইলেজ এনজাইম শ্বেতসার (স্টার্চ) ভাঙা শুরু করে
পাকস্থলীহাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড ও পেপসিন এনজাইম প্রোটিন ভাঙে; খাবার হয় তরল মণ্ড (কাইম)
ক্ষুদ্রান্ত্রবেশিরভাগ পরিপাক এখানে; ভিলাই (আঙুলের মতো উঁচু অংশ) দিয়ে পুষ্টি শোষণ
বৃহদন্ত্রঅতিরিক্ত পানি শোষণ; বর্জ্য জমাট বাঁধে

কৌশল: “মুখে শর্করা, পাকস্থলীতে প্রোটিন, ক্ষুদ্রান্ত্রে সব আর শোষণ, বৃহদন্ত্রে পানি।”

সাহায্যকারী তিন অঙ্গ

অঙ্গকাজ
যকৃৎ (লিভার)পিত্তরস তৈরি করে; মানবদেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি (ওজন প্রায় ১.২–১.৫ কেজি)
পিত্তথলিপিত্তরস জমা রাখে ও ক্ষুদ্রান্ত্রের শুরুতে (ডিওডেনাম) ছাড়ে
অগ্ন্যাশয়ক্ষুদ্রান্ত্রে এনজাইম পাঠায় (শর্করা, প্রোটিন, চর্বি ভাঙে); রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে ইনসুলিন তৈরি করে

পিত্তরসের কাজ

পিত্তরস নিজে এনজাইম নয়। এর কাজ বড় চর্বির ফোঁটাকে ছোট ছোট কণায় ভাঙা (অবদ্রবণ, emulsification), যাতে অগ্ন্যাশয়ের এনজাইম চর্বিকে সহজে ভাঙতে পারে। যেন সাবান দিয়ে তেলের দাগ ছোট ছোট করে ফেলা।

পরীক্ষার ফাঁদ

  • পিত্তরস তৈরি হয় পিত্তথলিতে ভাবা। তৈরি করে যকৃৎ; পিত্তথলি শুধু জমা রাখে।
  • পরিপাক শুরু হয় পাকস্থলীতে ভাবা। শুরু মুখেই, লালার অ্যামাইলেজ দিয়ে।
  • পুষ্টি শোষণ হয় বৃহদন্ত্রে ভাবা। বেশিরভাগ শোষণ ক্ষুদ্রান্ত্রে; বৃহদন্ত্রে মূলত পানি।
  • পিত্তরসকে চর্বি ভাঙার এনজাইম বলা। এটা চর্বিকে ছোট কণায় ভাঙে, এনজাইম নয়।

নিজেকে যাচাই করুন

জীববিজ্ঞান: এই ভাগের সব পাঠ৪ / ৯
  1. কোষ: জীবনের ছোট্ট কারখানা
  2. বংশগতি ও ডিএনএ: জীবনের রান্নার বই
  3. সালোকসংশ্লেষণ: পাতার রান্নাঘর
  4. পরিপাকতন্ত্র: এক টুকরা ভাতের যাত্রা (এখন পড়ছেন)
  5. রক্ত ও হৃৎপিণ্ড: রক্ত নামের শহর
  6. ভিটামিন ও পুষ্টি: ছয় ভিটামিন, ছয় ছবি
  7. রোগ ও টিকা: জেনারের গোয়ালিনী থেকে এডিস মশা
  8. অণুজীব: এক ফোঁটা পানির ভেতরের জগৎ
  9. বাস্তুসংস্থান: একটা পুকুরের গল্প
জীববিজ্ঞান ভাগের পাতায় যান →