এই পাঠের তথ্য উৎস মিলিয়ে লেখা ও প্রথমবার যাচাই করা হয়েছে; কয়েক দিন পর দ্বিতীয়বার যাচাই চলছে। কোথাও ভুল চোখে পড়লে নিচের “ভুল জানান” বাক্সে লিখুন।
১২০৪ সালের দিকে বখতিয়ার খলজির আক্রমণে বাংলায় সেন রাজত্বের অবসান হলো। তারপর প্রায় দেড়শো বছর, ১২০১ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত, বাংলা ভাষায় লেখা উল্লেখযোগ্য কোনো সাহিত্য পাওয়া যায় না। সাহিত্যের ইতিহাসে এই সময়টাকে অনেকে বলেন “অন্ধকার যুগ”।
বাংলা সাহিত্যের যুগ বিভাগ
| যুগ | সময় | প্রধান নিদর্শন |
|---|---|---|
| প্রাচীন যুগ | ৬৫০ (মতান্তরে ৯৫০)–১২০০ | চর্যাপদ |
| অন্ধকার যুগ (বিতর্কিত) | ১২০১–১৩৫০ | তেমন কিছু নেই; শূন্যপুরাণ-কে এ সময়ের ধরা হয় |
| মধ্যযুগ | ১৩৫০–১৮০০ | শ্রীকৃষ্ণকীর্তন, মঙ্গলকাব্য, বৈষ্ণব পদাবলি, অনুবাদ, রোমান্টিক কাব্য |
| আধুনিক যুগ | ১৮০১ থেকে | ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ থেকে গদ্যের শুরু |
অন্ধকার যুগের নিদর্শন বলে যা ধরা হয়
- শূন্যপুরাণ: রামাই পণ্ডিতের রচনা বলে ধরা হয়, ১৩ শতকের; ধর্মঠাকুরের পূজা নিয়ে। কোনো কোনো গবেষক ভাষা দেখে একে আরও পুরোনো মনে করেন।
- সেক শুভোদয়া: হলায়ুধ মিশ্রের নামে প্রচলিত, সংস্কৃত গদ্য-পদ্যে লেখা, মাঝে বাংলা ছড়া।
“অন্ধকার যুগ” নিয়ে বিতর্ক
সবাই এই নাম মানেন না। অনেক গবেষকের মতে, সাহিত্য একেবারে থেমে যায়নি; এ সময়ের লেখা হয়তো হারিয়ে গেছে বা সংরক্ষিত হয়নি। পরীক্ষায় অবশ্য “অন্ধকার যুগ = ১২০১–১৩৫০” এই হিসাবটাই সাধারণত চাওয়া হয়।
কৌশল: “১২০১ থেকে ১৩৫০, দেড়শো বছর আঁধার”। আর আঁধারের দুই প্রদীপ: “শূন্যপুরাণ আর সেক শুভোদয়া”।
আরও পড়ুন: চর্যাপদ: নেপালের গ্রন্থাগারে হাজার বছরের গান · শ্রীকৃষ্ণকীর্তন: গোয়ালঘরে পাওয়া কাব্য · মঙ্গলকাব্য
পরীক্ষার ফাঁদ
- শূন্যপুরাণকে চর্যাপদের সমসাময়িক লেখা। চর্যাপদ প্রাচীন যুগের; শূন্যপুরাণ সাধারণত অন্ধকার যুগের ধরা হয়।
- অন্ধকার যুগ ১৩৫০–১৮০০ লেখা। ১৩৫০–১৮০০ মধ্যযুগ।
- শূন্যপুরাণ বৈষ্ণব ধর্মের গ্রন্থ ভাবা। এটা ধর্মঠাকুরের পূজা নিয়ে।
নিজেকে যাচাই করুন
প্রাচীন ও মধ্যযুগের সাহিত্য: এই ভাগের সব পাঠ
- চর্যাপদ: নেপালের গ্রন্থাগারে হাজার বছরের গান
- অন্ধকার যুগ: ১২০১–১৩৫০-এর নীরবতা (এখন পড়ছেন)
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন: গোয়ালঘরে পাওয়া কাব্য
- অনুবাদ সাহিত্য: রামায়ণ-মহাভারত এল বাংলায়
- মঙ্গলকাব্য: বেহুলার ভেলা থেকে অন্নদামঙ্গল
- বৈষ্ণব পদাবলি: রাধা-কৃষ্ণের গান
- জীবনী সাহিত্য: দেবতা থেকে মানুষে
- আরাকান রাজসভা: দৌলত কাজী ও আলাওল
- পুঁথি সাহিত্য: বটতলার দোভাষী কাব্য
- লোকসাহিত্য ও গীতিকা: মহুয়ার দেশ