এই পাঠের তথ্য উৎস মিলিয়ে লেখা ও প্রথমবার যাচাই করা হয়েছে; কয়েক দিন পর দ্বিতীয়বার যাচাই চলছে। কোথাও ভুল চোখে পড়লে নিচের “ভুল জানান” বাক্সে লিখুন।
রাধা যমুনার ঘাটে জল আনতে যায়, দূর থেকে ভেসে আসে কৃষ্ণের বাঁশির সুর। এই প্রেম, বিরহ আর মিলনের ছোট ছোট গীতিকবিতাই বৈষ্ণব পদাবলি। মূলত ১৬–১৭ শতকে প্রায় তিনশো বছর ধরে এ পদ লেখা হয়েছে।
চার প্রধান কবি
| কবি | বিশেষত্ব |
|---|---|
| বিদ্যাপতি | মিথিলার কবি (১৫ শতক); ব্রজবুলি ভাষায় লিখেছেন; বিরহের পদে শ্রেষ্ঠ |
| চণ্ডীদাস | প্রেম ও মিলনের পদে বিখ্যাত |
| জ্ঞানদাস | বাৎসল্য ও অনুরাগের পদ |
| গোবিন্দদাস | অভিসারের পদ |
ব্রজবুলি কী
মৈথিলী ও বাংলার মিশ্রণে তৈরি একটি কৃত্রিম কাব্যভাষা। বিদ্যাপতি এতে লিখতেন, পরে বাংলার বৈষ্ণব কবিরাও। বিদ্যাপতি বাংলায় না লিখলেও বাংলা সাহিত্যে তাঁর প্রভাব বিশাল।
পটভূমি আর সংকলন
- দ্বাদশ শতকে জয়দেবের সংস্কৃত গীতগোবিন্দ এ ধারার পূর্বসূরি।
- বড়ু চণ্ডীদাসের শ্রীকৃষ্ণকীর্তন (১৪ শতক) বাংলা ভাষার প্রথম কাহিনিকাব্য।
- শ্রীচৈতন্যের (১৪৮৬–১৫৩৩) প্রভাবে পদাবলি আধ্যাত্মিক রূপ পায়: রাধা-কৃষ্ণের প্রেম হয়ে ওঠে মানুষের আত্মা ও ঈশ্বরের সম্পর্ক।
- পদকল্পতরু (১৭৬০, বৈষ্ণবদাস): প্রায় ১৫০ কবির প্রায় ৩,০০০ পদের সংকলন।
- আলাওলসহ কয়েকজন মুসলমান কবিও পদাবলি লিখেছেন।
কৌশল: “বিদ্যা বিরহে, চণ্ডী মিলনে, জ্ঞান বাৎসল্যে, গোবিন্দ অভিসারে”।
আরও পড়ুন: জীবনী সাহিত্য · মঙ্গলকাব্য · শ্রীকৃষ্ণকীর্তন: গোয়ালঘরে পাওয়া কাব্য
পরীক্ষার ফাঁদ
- বিদ্যাপতিকে বাঙালি কবি লেখা। তিনি মিথিলার কবি, লিখেছেন ব্রজবুলিতে।
- ব্রজবুলিকে একটি অঞ্চলের কথ্য ভাষা ভাবা। এটা কৃত্রিম সাহিত্যভাষা।
- গীতগোবিন্দকে বাংলা কাব্য লেখা। জয়দেবের গীতগোবিন্দ সংস্কৃতে।
- পদকল্পতরুকে একজন কবির রচনা ভাবা। এটা বৈষ্ণবদাসের সংকলন।
নিজেকে যাচাই করুন
প্রাচীন ও মধ্যযুগের সাহিত্য: এই ভাগের সব পাঠ
- চর্যাপদ: নেপালের গ্রন্থাগারে হাজার বছরের গান
- অন্ধকার যুগ: ১২০১–১৩৫০-এর নীরবতা
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন: গোয়ালঘরে পাওয়া কাব্য
- অনুবাদ সাহিত্য: রামায়ণ-মহাভারত এল বাংলায়
- মঙ্গলকাব্য: বেহুলার ভেলা থেকে অন্নদামঙ্গল
- বৈষ্ণব পদাবলি: রাধা-কৃষ্ণের গান (এখন পড়ছেন)
- জীবনী সাহিত্য: দেবতা থেকে মানুষে
- আরাকান রাজসভা: দৌলত কাজী ও আলাওল
- পুঁথি সাহিত্য: বটতলার দোভাষী কাব্য
- লোকসাহিত্য ও গীতিকা: মহুয়ার দেশ