এই পাঠের তথ্য উৎস মিলিয়ে লেখা ও প্রথমবার যাচাই করা হয়েছে; কয়েক দিন পর দ্বিতীয়বার যাচাই চলছে। কোথাও ভুল চোখে পড়লে নিচের “ভুল জানান” বাক্সে লিখুন।
কলকাতার বটতলার ছাপাখানা, ১৯ শতক। সস্তা কাগজে ছাপা হচ্ছে আমির হামজার যুদ্ধ, ইউসুফ-জুলেখার প্রেম, হাতেম তাইয়ের দানের গল্প। অদ্ভুত ব্যাপার: বাংলা হরফে ছাপা, কিন্তু পাতা উল্টাতে হয় ডান থেকে বাঁয়ে, আরবি-ফারসি বইয়ের মতো। এই বইগুলোই পুঁথি সাহিত্য।
পুঁথি সাহিত্য কী
- “পুঁথি” শব্দ এসেছে “পুস্তিকা” থেকে, মানে বই।
- ভাষা মিশ্র: বাংলার সঙ্গে আরবি, ফারসি, উর্দু, হিন্দি শব্দ। তাই একে দোভাষী পুঁথিও বলে।
- সময়: ১৮–১৯ শতক।
- কলকাতার বটতলায় ছাপা হতো বলে নাম “বটতলার পুঁথি”।
প্রধান কবি
| কবি | রচনা |
|---|---|
| ফকির গরিবুল্লাহ (আনু. ১৬৮০–১৭৭০) | আমির হামজা (প্রথম অংশ; এ ধারার সূচনা), ইউসুফ-জুলেখা, সোনাভান, সত্যপীরের পুঁথি, জঙ্গনামা |
| সৈয়দ হামজা | আমির হামজা-র বাকি অংশ (১৭৯৫), মধুমালতী, জৈগুনের পুঁথি (১৭৯৮), হাতেম তাই (১৮০৪) |
বিষয়
- রোমান্টিক প্রেমকাহিনি
- যুদ্ধকাহিনি
- নবী ও পীর-আউলিয়ার জীবন
- পীরের লোককাহিনি
- ইসলামের ইতিহাস ও ধর্মাচার
কৌশল: “গরিবুল্লাহ শুরু, হামজা শেষ” (আমির হামজা কাব্য)। আর “বটতলা, দোভাষী, ডান থেকে বাঁয়ে”।
আরও পড়ুন: অনুবাদ সাহিত্য · আরাকান রাজসভা · লোকসাহিত্য ও গীতিকা
পরীক্ষার ফাঁদ
- আমির হামজা পুরোটা ফকির গরিবুল্লাহর লেখা। তিনি শুরু করেন; সৈয়দ হামজা ১৭৯৫ সালে শেষ করেন।
- পুঁথি সাহিত্য মধ্যযুগের শুরুর দিকের লেখা। এটা ১৮–১৯ শতকের, মধ্যযুগের একেবারে শেষ থেকে।
- দোভাষী মানে দুই ভাষায় আলাদা লেখা ভাবা। এটা বাংলার সঙ্গে আরবি-ফারসি শব্দের মিশ্রণ।
নিজেকে যাচাই করুন
প্রাচীন ও মধ্যযুগের সাহিত্য: এই ভাগের সব পাঠ
- চর্যাপদ: নেপালের গ্রন্থাগারে হাজার বছরের গান
- অন্ধকার যুগ: ১২০১–১৩৫০-এর নীরবতা
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন: গোয়ালঘরে পাওয়া কাব্য
- অনুবাদ সাহিত্য: রামায়ণ-মহাভারত এল বাংলায়
- মঙ্গলকাব্য: বেহুলার ভেলা থেকে অন্নদামঙ্গল
- বৈষ্ণব পদাবলি: রাধা-কৃষ্ণের গান
- জীবনী সাহিত্য: দেবতা থেকে মানুষে
- আরাকান রাজসভা: দৌলত কাজী ও আলাওল
- পুঁথি সাহিত্য: বটতলার দোভাষী কাব্য (এখন পড়ছেন)
- লোকসাহিত্য ও গীতিকা: মহুয়ার দেশ