এই পাঠের তথ্য উৎস মিলিয়ে লেখা ও প্রথমবার যাচাই করা হয়েছে; কয়েক দিন পর দ্বিতীয়বার যাচাই চলছে। কোথাও ভুল চোখে পড়লে নিচের “ভুল জানান” বাক্সে লিখুন।
“কাজ” একটা সাধারণ শব্দ। আগে কু বসালে হয় কুকাজ, অ বসালে অকাজ। ছোট্ট একটা শব্দাংশ সামনে বসে পুরো শব্দের মানে বদলে দিল। এই শব্দাংশই উপসর্গ।
সংজ্ঞা
যেসব অব্যয় শব্দাংশ শব্দের আগে বসে নতুন শব্দ গঠন করে এবং মূল শব্দের অর্থের পরিবর্তন, সম্প্রসারণ বা সংকোচন ঘটায়, সেগুলোকে উপসর্গ বলে। (শব্দের পরে বসলে সেটা প্রত্যয়, উপসর্গ নয়।)
তিন ধরনের উপসর্গ
| ধরন | উদাহরণ উপসর্গ | শব্দ |
|---|---|---|
| বাংলা | অ, আ, কু, নি, বি, ভর, সা | কু + কাজ = কুকাজ; অ + কাজ = অকাজ |
| তৎসম (সংস্কৃত) | প্র, পরা, অপ, সম্, সু… | প্র + হার = প্রহার; সু + গন্ধ = সুগন্ধ |
| বিদেশি | বে (ফারসি), না, … | বে + আইন = বেআইন; না + রাজ = নারাজ |
২০টি তৎসম উপসর্গ
প্র, পরা, অপ, সম্, নি, অব, অনু, নির্, দুর্, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।
মনে রাখার ছন্দ: “প্র-পরা-অপ-সম্, নি-অব-অনু-নির্; দুর্-বি-অধি-সু-উৎ, পরি-প্রতি-অতি; অপি-অভি-উপ-আ।” তিন নিঃশ্বাসে কুড়িটা।
একই রূপ, ভিন্ন দল
কিছু উপসর্গ বাংলা আর তৎসম দুই দলেই দেখা যায় (যেমন অ, আ, বি, নি)। চেনার কৌশল: যুক্ত হওয়া মূল শব্দটা তৎসম হলে উপসর্গটা সাধারণত তৎসম, আর খাঁটি বাংলা (তদ্ভব/দেশি) শব্দের সাথে হলে বাংলা উপসর্গ। যেমন “আ + হার = আহার”-এ তৎসম, কিন্তু “আ + ধোয়া = আধোয়া”-তে বাংলা।
পরীক্ষার ফাঁদ
- উপসর্গকে শব্দের শেষে বসা অংশ ভাবা। শেষে বসে প্রত্যয়।
- তৎসম উপসর্গের সংখ্যা ২১ লেখা। তৎসম উপসর্গ ২০টি।
- “বে” কে বাংলা উপসর্গ ভাবা। এটা বিদেশি (ফারসি) উপসর্গ।
নিজেকে যাচাই করুন
ভাষা ও ব্যাকরণ: এই ভাগের সব পাঠ
- ধ্বনি ও বর্ণ: শোনার জিনিস, দেখার জিনিস
- ধ্বনি পরিবর্তন: স্কুল থেকে ইস্কুল
- শব্দের শ্রেণি: চন্দ্র থেকে চাঁদ, আনারস থেকে রিকশা
- পদ প্রকরণ: শব্দ যখন বাক্যে ঢোকে
- সন্ধি: দুই ধ্বনির হাত ধরা
- সমাস: অনেক শব্দ মিলে এক শব্দ
- কারক ও বিভক্তি: বাক্যের নাটকে কে কোন চরিত্র
- উপসর্গ: শব্দের আগে বসা ছোট্ট জাদুকর (এখন পড়ছেন)
- বাচ্য: আলো পড়ে কার ওপর
- প্রমিত বানানের নিয়ম: শ্রেণী নয়, শ্রেণি