এক কথায় প্রকাশ: ভূতপূর্ব থেকে ওষধি

এই পাঠের তথ্য উৎস মিলিয়ে লেখা ও প্রথমবার যাচাই করা হয়েছে; কয়েক দিন পর দ্বিতীয়বার যাচাই চলছে। কোথাও ভুল চোখে পড়লে নিচের “ভুল জানান” বাক্সে লিখুন।

“যিনি মৃত্যুর পর অমর হয়েছেন” না বলে একটা শব্দে বলি: অমর। অনেক কথাকে এক শব্দে বলার এই কৌশলের নাম এক কথায় প্রকাশ (বাক্য সংকোচন)। লেখা ছোট হয়, ভাষা হয় ধারালো।

বেশি আসা এক কথায় প্রকাশ

বাক্যাংশএক কথায়
যা পূর্বে ছিল এখন নেইভূতপূর্ব
যা বলা হয়নিঅনুক্ত
যার কোনো উপায় নেইনিরুপায়
যা কখনো ভাবা যায় নাঅভাবনীয়
যা দেখা যায় নাঅদৃশ্য
যা নিবারণ করা কঠিনদুর্নিবার
যা সহজে লাভ করা যায় নাদুর্লভ
যা পূর্বে কখনো দেখা যায়নিঅদৃষ্টপূর্ব
যা পূর্বে শোনা যায়নিঅশ্রুতপূর্ব
যার তুলনা নেইঅতুলনীয়
যার শত্রু জন্মায়নিঅজাতশত্রু
যে নারীর সন্তান বাঁচে নামৃতবৎসা
যে গাছে ফুল ধরে কিন্তু ফল হয় নাবন্ধ্য
যিনি বহু বিষয়ে জানেনবহুদর্শী
যার কোনো কিছু থেকেই ভয় নেইঅকুতোভয়
যা জলে চরেজলচর
যা আকাশে চরেখেচর
আপনাকে কেন্দ্র করে যার চিন্তাআত্মকেন্দ্রিক
ফল পাকলে যে গাছ মরে যায়ওষধি
যে গাছ অন্য গাছের ওপর জন্মায়পরগাছা

কৌশল: “পূর্ব” মানেই আগে: ভূতপূর্ব (আগে ছিল), অদৃষ্টপূর্ব (আগে দেখা যায়নি), অশ্রুতপূর্ব (আগে শোনা যায়নি)। “অ” মানে না: অনুক্ত, অদৃশ্য, অতুলনীয়।

আরও পড়ুন: বাগধারা · সমার্থক ও বিপরীতার্থক শব্দ

পরীক্ষার ফাঁদ

  • “যা পূর্বে ছিল এখন নেই”-এর উত্তর “অতীত” লেখা। সঠিক “ভূতপূর্ব”।
  • অদৃষ্টপূর্ব আর অশ্রুতপূর্ব গুলিয়ে ফেলা। দৃষ্ট = দেখা, শ্রুত = শোনা।
  • “ওষধি” মানে ওষুধ ভাবা। এখানে অর্থ: ফল পাকলে যে গাছ মরে যায় (যেমন ধান, কলা)।

নিজেকে যাচাই করুন

ভাষা ও ব্যাকরণ: এই ভাগের সব পাঠ১৩ / ১৪
  1. ধ্বনি ও বর্ণ: শোনার জিনিস, দেখার জিনিস
  2. ধ্বনি পরিবর্তন: স্কুল থেকে ইস্কুল
  3. শব্দের শ্রেণি: চন্দ্র থেকে চাঁদ, আনারস থেকে রিকশা
  4. পদ প্রকরণ: শব্দ যখন বাক্যে ঢোকে
  5. সন্ধি: দুই ধ্বনির হাত ধরা
  6. সমাস: অনেক শব্দ মিলে এক শব্দ
  7. কারক ও বিভক্তি: বাক্যের নাটকে কে কোন চরিত্র
  8. উপসর্গ: শব্দের আগে বসা ছোট্ট জাদুকর
  9. বাচ্য: আলো পড়ে কার ওপর
  10. প্রমিত বানানের নিয়ম: শ্রেণী নয়, শ্রেণি
  11. যতিচিহ্ন: কোথায় থামবেন, কতক্ষণ
  12. বাগধারা: অকাল কুষ্মাণ্ড থেকে শাপে বর
  13. এক কথায় প্রকাশ: ভূতপূর্ব থেকে ওষধি (এখন পড়ছেন)
  14. সমার্থক ও বিপরীতার্থক শব্দ: রবি-শশী থেকে জঙ্গম-স্থাবর
ভাষা ও ব্যাকরণ ভাগের পাতায় যান →