এই পাঠের তথ্য উৎস মিলিয়ে লেখা ও প্রথমবার যাচাই করা হয়েছে; কয়েক দিন পর দ্বিতীয়বার যাচাই চলছে। কোথাও ভুল চোখে পড়লে নিচের “ভুল জানান” বাক্সে লিখুন।
মুখে বললাম “মা”। বাতাসে যে আওয়াজটা ভাসল, সেটা ধ্বনি। খাতায় লিখলাম “মা”। কাগজে যে চিহ্নটা বসল, সেটা বর্ণ। শোনার জিনিস ধ্বনি, দেখার জিনিস বর্ণ।
তিন সংজ্ঞা
- ধ্বনি: উচ্চারিত শব্দকে বিশ্লেষণ করলে পাওয়া ক্ষুদ্রতম আলাদা উপাদান; বাগ্যন্ত্রে তৈরি হয়।
- বর্ণ: ধ্বনির লিখিত চিহ্ন বা প্রতীক।
- বর্ণমালা: কোনো ভাষা লিখতে ব্যবহৃত বর্ণের সমষ্টি।
সংখ্যার ছক
| বিষয় | সংখ্যা |
|---|---|
| মোট বর্ণ | ৫০ |
| স্বরবর্ণ | ১১ (অ আ ই ঈ উ ঊ ঋ এ ঐ ও ঔ) |
| ব্যঞ্জনবর্ণ | ৩৯ |
| মৌলিক স্বরধ্বনি | ৭ (অ, আ, ই, উ, এ, ও, অ্যা) |
| যৌগিক স্বরজ্ঞাপক বর্ণ | ২ (ঐ, ঔ) |
| কার | ১০ (অ ছাড়া সব স্বরবর্ণের) |
| স্পর্শবর্ণ | ২৫ (ক থেকে ম) |
| অযোগবাহ | ২ (ং, ঃ) |
| খণ্ডব্যঞ্জন | ১ (ৎ) |
কৌশল: “পঞ্চাশে এগারো স্বর, বাকি ঊনচল্লিশ ব্যঞ্জন; সাতটা মৌলিক, দশটা কার।” ১১ স্বরের মধ্যে “অ”-এর কোনো কার নেই, তাই কার ১০টা।
মাত্রা অনুযায়ী বর্ণ
| ধরন | মোট | স্বর + ব্যঞ্জন |
|---|---|---|
| পূর্ণমাত্রা | ৩২ | ৬ + ২৬ |
| অর্ধমাত্রা | ৮ | ১ + ৭ |
| মাত্রাহীন | ১০ | ৪ + ৬ |
তিন সংখ্যা যোগ করলে ৩২ + ৮ + ১০ = ৫০, মোট বর্ণের সমান। একবার মিলিয়ে নিলে ভোলা কঠিন।
পরীক্ষার ফাঁদ
- মৌলিক স্বরধ্বনি আর স্বরবর্ণ গুলিয়ে ফেলা। স্বরবর্ণ ১১টি, কিন্তু মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি।
- কারের সংখ্যা ১১ লেখা। “অ”-এর কার নেই, তাই ১০টি।
- “অ্যা”-কে মৌলিক স্বরধ্বনি থেকে বাদ দেওয়া। এর আলাদা বর্ণ নেই, কিন্তু এটা মৌলিক স্বরধ্বনি।
- ধ্বনি আর বর্ণকে একই ভাবা। ধ্বনি উচ্চারণের, বর্ণ লেখার।
নিজেকে যাচাই করুন
ভাষা ও ব্যাকরণ: এই ভাগের সব পাঠ
- ধ্বনি ও বর্ণ: শোনার জিনিস, দেখার জিনিস (এখন পড়ছেন)
- ধ্বনি পরিবর্তন: স্কুল থেকে ইস্কুল
- শব্দের শ্রেণি: চন্দ্র থেকে চাঁদ, আনারস থেকে রিকশা
- পদ প্রকরণ: শব্দ যখন বাক্যে ঢোকে
- সন্ধি: দুই ধ্বনির হাত ধরা
- সমাস: অনেক শব্দ মিলে এক শব্দ
- কারক ও বিভক্তি: বাক্যের নাটকে কে কোন চরিত্র
- উপসর্গ: শব্দের আগে বসা ছোট্ট জাদুকর
- বাচ্য: আলো পড়ে কার ওপর
- প্রমিত বানানের নিয়ম: শ্রেণী নয়, শ্রেণি