যতিচিহ্ন: কোথায় থামবেন, কতক্ষণ

এই পাঠের তথ্য উৎস মিলিয়ে লেখা ও প্রথমবার যাচাই করা হয়েছে; কয়েক দিন পর দ্বিতীয়বার যাচাই চলছে। কোথাও ভুল চোখে পড়লে নিচের “ভুল জানান” বাক্সে লিখুন।

একটা চিঠি ভাবুন যেখানে কোনো দাঁড়ি-কমা নেই: “বাবা বললেন খাও না” — এটা কি খেতে বলা, না নিষেধ? “বাবা বললেন, খাও না।” আর “বাবা বললেন, খাও না?” পুরো আলাদা মানে। লেখার এই থামার চিহ্নগুলোকেই বলে যতিচিহ্ন (বিরামচিহ্ন বা ছেদচিহ্ন)। বাংলা গদ্যে এগুলোর নিয়মিত ব্যবহার চালু করেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।

যতিচিহ্ন ও থামার সময়

চিহ্ননামকতক্ষণ থামবেনকোথায় বসে
,কমা (পাদচ্ছেদ)১ বলতে যে সময় লাগেঅল্প বিরতি; সম্বোধনের পর; উদ্ধৃতির আগে
;সেমিকোলন (অর্ধচ্ছেদ)১ বলার দ্বিগুণ সময়কমার চেয়ে বেশি, দাঁড়ির চেয়ে কম বিরতি; কাছাকাছি অর্থের বাক্যাংশের মাঝে
।দাঁড়ি (পূর্ণচ্ছেদ)১ সেকেন্ডবাক্যের শেষে
?প্রশ্নবোধক চিহ্ন১ সেকেন্ডপ্রশ্নসূচক বাক্যের শেষে
!বিস্ময়সূচক চিহ্ন১ সেকেন্ডআবেগ, বিস্ময়, দুঃখ প্রকাশে
:কোলন১ সেকেন্ডউদাহরণ বা ব্যাখ্যার আগে
—ড্যাশ১ সেকেন্ডবাক্যের মধ্যে ব্যাখ্যা বা ভাবান্তর
:-কোলন-ড্যাশ১ সেকেন্ডউদাহরণ দেওয়ার আগে
–হাইফেন (সংযোগ চিহ্ন)থামতে হয় নাসমাসবদ্ধ বা জোড়া শব্দে: মা-বাবা
’ঊর্ধ্বকমা (লোপ চিহ্ন)থামতে হয় নাবর্ণ লোপ বোঝাতে: হ’ল
“ ”উদ্ধারচিহ্নথামতে হয় নাকারও কথা হুবহু তুলে দিতে
( ) { } [ ]বন্ধনীথামতে হয় নাবাড়তি তথ্য বা ব্যাখ্যা

ঝটপট নিয়ম

  • বাক্যের শেষে বসে তিনটি চিহ্ন: দাঁড়ি, প্রশ্নবোধক আর বিস্ময়সূচক।
  • সম্বোধনের পর কমা বসে: “রহিম, এদিকে এসো।”
  • হাইফেন আর ড্যাশ এক নয়: হাইফেন ছোট, শব্দ জোড়ে; ড্যাশ লম্বা, বাক্যাংশ আলাদা করে।

কৌশল: “কমা এক, সেমি দুই, বাকি সব এক সেকেন্ড; হাইফেন-ঊর্ধ্বকমা-উদ্ধার-বন্ধনী থামে না”।

আরও পড়ুন: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর: যতিচিহ্নের জাদুকর

পরীক্ষার ফাঁদ

  • সেমিকোলনে থামার সময় ১ সেকেন্ড লেখা। সেমিকোলনে ১ বলার দ্বিগুণ সময়; দাঁড়িতে ১ সেকেন্ড।
  • হাইফেনে থামতে হয় ভাবা। হাইফেনে থামতে হয় না।
  • কোলন আর কোলন-ড্যাশ এক ভাবা। কোলন (:) ব্যাখ্যার আগে; কোলন-ড্যাশ (:-) উদাহরণের আগে।

দ্রষ্টব্য: থামার সময়গুলো প্রচলিত ব্যাকরণ বইয়ের হিসাব।

নিজেকে যাচাই করুন

ভাষা ও ব্যাকরণ: এই ভাগের সব পাঠ১১ / ১৪
  1. ধ্বনি ও বর্ণ: শোনার জিনিস, দেখার জিনিস
  2. ধ্বনি পরিবর্তন: স্কুল থেকে ইস্কুল
  3. শব্দের শ্রেণি: চন্দ্র থেকে চাঁদ, আনারস থেকে রিকশা
  4. পদ প্রকরণ: শব্দ যখন বাক্যে ঢোকে
  5. সন্ধি: দুই ধ্বনির হাত ধরা
  6. সমাস: অনেক শব্দ মিলে এক শব্দ
  7. কারক ও বিভক্তি: বাক্যের নাটকে কে কোন চরিত্র
  8. উপসর্গ: শব্দের আগে বসা ছোট্ট জাদুকর
  9. বাচ্য: আলো পড়ে কার ওপর
  10. প্রমিত বানানের নিয়ম: শ্রেণী নয়, শ্রেণি
  11. যতিচিহ্ন: কোথায় থামবেন, কতক্ষণ (এখন পড়ছেন)
  12. বাগধারা: অকাল কুষ্মাণ্ড থেকে শাপে বর
  13. এক কথায় প্রকাশ: ভূতপূর্ব থেকে ওষধি
  14. সমার্থক ও বিপরীতার্থক শব্দ: রবি-শশী থেকে জঙ্গম-স্থাবর
ভাষা ও ব্যাকরণ ভাগের পাতায় যান →